সবুজবাংলা২৪ডটকম, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জে মেয়ে ও জামাই কতৃক প্রতারণার শিকার হলেন প্রতিবন্ধী মা। ঘটনাটি ঘটেছে, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার মৌলভীপাড়ায়। এ ব্যপারে প্রতিবন্ধী মরিয়ম বেগম (৫৯) বাদি হয়ে মেয়ে রুমা বেগম ও জামাই আলমগীর হোসেন ঝন্টু মুন্সিকে আসামি করে গোপালগঞ্জ সিনিয়র জুড়িশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছে।
শারীরিক প্রতিবন্ধী মরিয়ম বেগমের আদালতে দায়েরকৃত মামলা নং সিআর ২৩৫/২৬ উল্লেখ করা হয়েছে, ১‘নং আসামি রুমা বেগম (কন্যা) ২ নং আসামী ঝন্টু মুন্সি বাদির জামাই। বাদি একজন শারিরিক প্রতিবন্ধী অসুস্থ ব্যাক্তি, বাদির স্বামী কাওছার শেখ প্রতিবন্ধী স্ত্রী মরিয়মের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে গত ১১-১০-২১ ইং তারিখে গোপালগঞ্জ প্রধান ডাকঘরে ৫বছর মেয়াদি ১০লাখ টাকার সঞ্চয় খরিদ করেন। যার রেজিষ্ট্রেশন নাম্বার ২০২১/১০৭৬৫৪৫, এরপর ২৩-০৫-২০২২ইং তারিখে ৫ বছর মেয়াদি ২০লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র খরিদ করেন। যার রেজিষ্ট্রেশন নাম্বার ২০২২/০৫৯৯৪১৬ এবং এর মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ ২০২৭ইং তারিখ। উল্লেখিত সঞ্চয়পত্র নমিনি করা হয় আসামি রুমা (কন্যা) বেগমকে।
এরপর মেয়ে রুমা বেগম বাদির প্রতিমাসের সঞ্চয়পত্রের মুনাফার টাকা উত্তোলন করে নেয় কিন্ত বিষয় তার প্রতিবন্ধী মাকে জানানো হয়নি। পরে গত ০৩-০২-২৬ ইং তারিখে দুপুর ১২টার দিকে আসামি রুমা বেগম ও তার স্বামী আলমগীর হোসেন ঝন্টু ২টা চেকের পাতায় মরিয়ম বেগমকে (মা) সাক্ষর করতে বললে মরিয়ম বেগম মেয়ে জামাইর প্রতি অঘাত বিশ্বাস রেখে দুটি পাতায় সাক্ষর করে দেন। চেক দুইটার সিরিয়াল নাম্বার ংনষ ঘড়, অ৩৪৯৩৫১৮ ও অ৩৪৯৩৫২০। অ৩৪৯৩৫১৮ নাম্বার সিরিয়াল চেকের পাতা দিয়ে সঞ্চয়ের মুনাফার টাকা উত্তোলন করে ও অপর অ৩৪৯৩৫২০ সিরিয়াল নাম্বার চেকের পাতা দিয়ে মা মরিয়ম বেগমের কাছে ৪০ লাখ টাকা পাবেন মর্মে একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠায়, যাহা মিথ্যা বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।
উল্লেখ থাকে যে, ২নং আসামী আলমগীর হোসেন ঝন্টু পিতা বাকাদ্দেছ মুন্সি, এরআগে অ্যাসেনশিয়াল ড্রাগসে চাকুরি দেওয়ার কথা বলে চরমানিকদাহ সোবাহান মোল্লার ছেলে নুর জামাল মোল্লার কাছ থেকে প্রতারনার মাধ্যমে ৫লাখ টাকা নেন। পরবর্তী চাকুরি না দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে নুর জামালের দায়েরকৃত মামলায় ঝন্টুর এক বছর কারাদন্ড হয়। এছাড়া ঝন্টুর বিরুদ্ধে নানা ধরনের প্রতারনার অভিযোগ রয়েছে।