সবুজবাংলা২৪ডটকম, ঢাকা : ঢাকা উত্তর সিটির হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পাশে অবস্থিত আমদানি ভবন এবং এরই রাস্তার পূর্ব দিকে সিভিল এভিয়েশনে জায়গায় অবস্থিত ঢাকা কাস্টমস হাউস। আর এই ঢাকা কাস্টমস হাউজ ৪ তলা বিশিষ্ট ভবন। এই ঢাকা কাস্টমস হাউস ভবনে বসেন কাস্টম কমিশনার,ডেপুটি কমিশনার (একাধিক), সহকারি ডেপুটি কমিশনার(একাধিক), প্রিভেন্টিভ,রাজস্ব কর্মকর্তা, সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তাসহ কাস্টমসের অন্যান্য কর্মকর্তারা। ঢাকা কাস্টমস হাউসে কর্মকর্তাদের সঙ্গে কোনো সাংবাদিক সাক্ষাৎ করতে চাইলেও প্রধান ফটকেই নিতে হয় অনুমতি। আর কাস্টস কর্মকর্তা অনুমতি না দিলে তাদের সাক্ষাৎ মেলে না,তারা এতোটাই ব্যস্ত যে কাস্টমস হাউসে বর্তমান অবস্থা নিয়ে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলারই সময় নেই। এদিকে ঢাকা কাস্টমস হাউসের প্রধান গেটে ১ ঘন্টার মত অপেক্ষা করে অনুমতি নিয়ে ঢাকা কাস্টমস হাউসে প্রবেশ করে জানা গেলো কাস্টমস হাউস ভবনের তৃতীয় তলায় অবস্থিত লং রুম । আর এই লং রুমের শুল্ক টিম ১ থেকে ২২ পর্যন্ত অবস্থিত তবে শুল্ক টিম-১৪ অন্য রুমে অবস্থিত। শুধু তাই নয় এই লং রুমে বসেন নিম্নস্থ কাস্টমস কর্মকর্তারা এবং তাদেরই অধিনস্ত বহিরাগত পিয়ন। আর এই পিয়নদের মাধ্যমেই চলে নিরব দুরনীতি। সরেজমিনে তথ্য নিয়ে জানা যায়,সিএন্ডএফ প্রতিষ্ঠানের কর্মরতরা তাদের ফাইলে সিল মারতে আসেন এই লং রুমে এবং প্রতিটা ফাইল সিল মারতে এই সব বহিরাগত পিয়নরা ২শ থেকে ৩শ টাকা করে দিচ্ছেন তারা এবং কাস্টমস রাজস্ব কর্মকর্তা ও সহকারি রাজস্ব কর্মকর্তাদের সিল মারছেন,যার কারণে নীরবে দুর্নীতির দায়ে সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব। আরো তথ্য নিয়ে জানা যায়, এই ভবনে পাশেই আছে সিএন্ডএফ ভবন। বিদেশ থেকে আসা পন্য খালাসে জন্য প্রয়োজন হয় সরকার অনুমোদিত যা সিএন্ডএফ লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পন্য খালাস করা হয়। বিভিন্ন দেশ থেকে কার্গো বিমানে করে আসে নানা পন্য আর এই পন্য খালাসে জন্য প্রয়োজন হয় সিএন্ডএফ লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানের । এদিকে গোপনে তথ্য নিয়ে জানা গেছে,ঢাকা কাস্টমস কর্মকর্তাদের দুর্নীতির সহযোগিতার জন্য ঢাকা কাস্টমস হাউসে বহিরাগতদের আনাগোনা দেখা যায়,আর এসব বহিরাগতদের সঙ্গে কাস্টমস কর্মকর্তাদের যোগসাজশ থাকার তথ্য মেলে,তবে তারা ফাইলে মোটা অংকের ঘুষ লেনদেন করেন বহিরাগতের মাধ্যমে এবং তা কাস্টমস হাউসের ভিতরে থাকা সিসি ক্যামের অন্তরালে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,এই বহিরাগতরা সপ্তাহে ৫ দিনই ঢাকা কাস্টমস হাউসে এসে গ্রাহকদের মাল খালাসের জন্য সিএন্ডএফ লাইসেন্সধারীদের মালখালাসের কাজ করে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে। সকাল ১০ টা থেকে দুপুরে এক ঘন্টা বিরতিতে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত এ বহিরাগতদের ফাইল নিয়ে ছোটাছুটি করতে দেখা যায়। এই টাকার একাংশ আবার চলে যায় কাস্টমস হাউসের উর্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে। এদিকে কাস্টমস মাল খালাসের সিএন্ডএফ লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠান গুলো জানায় তারা সরকারকে সঠিক ভাবে মাল খালাসের রাজস্ব দিতে রাজি আছেন, তবে তাদের বড় বড় পন্য খালাসের পেপারস কাস্টমস হাউসের ডিসি পর্যন্ত যাওয়ার পূর্বে অনেক টেবিলের কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর লাগে আর এ স্বাক্ষর করাতে দিতে হয় প্রতিটা ফাইল ৩০০/৪০০ টাকা ঘুষ,তা না হলে ফাইল এ স্বাক্ষর হয় না এবং কাস্টমস কর্মকর্তাদের সিলও মেলে না। এরপরে ডেপুটি কমিশনারদের কাছে বড় ফাইল গেলে সেখানেও দিতে হয় মোটা অংকের ঘুষ,আর এই ঘুষ গ্রহন করেন ডেপুটি কমিশনারের দরজার সামনে থাকা সিপাহিরা। আবার কাস্টমস হাউসের এই ঘুষের টাকা গ্রহন করেন কাস্টমস কর্মকর্তাদের বহিরাগতরাও। এই বহিরাগতরাই আবার কি ধরনের পণ্য ও মান বুঝেই টাকা পরিমাণ নিয়ে থাকেন। দেখা যায় এই বহিরাগতরা সিএন্ডএফ লাইসেন্সধারী কোম্পানির অফিসের কর্মচারীদের নিকট থেকে কাস্টমস হাউসের বহিরাগতরা টাকা নিচ্ছে এবং সিল মারছেন(প্রতিদিন ৩শ থেকে ৪শ ফাইল) এবং পরে কাস্টমস কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর করিয়ে আনছেন। এদিকে কাস্টমস হাউজে সরেজমিনে তথ্য নিয়ে জানা গেছে,কাস্টমস হাউসের জনপ্রসাশনের দায়িত্ব রয়েছেন জাকির হোসেন আর এ সব দেখা শোনা করেন তিনি।আর এ হাউসে বহিরাগতদের মধ্যে সবুজ টিম-৬, নাহিদ, সাবিনা-৭/৮টিম, ফরহাদ ও মোস্তফা এই রুমে টিমে কাজ করেন এবং একই ভাবে ঘুষ বানিজ্যের কাজ লিপ্ত থাকেন। এদিকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের পর এ ধরনে ঘুষ বানিজ্যে কাজ সাময়িক বন্ধ থাকলেও কিছু দিন পর একই ভাবে ঘুষ বানিজ্য চলতে দেখা যায়। এ ছাড়া কাস্টমস হাউসের ৪র্থ তলায় ৪১৪ নম্বর রুমে আরও এবং এআরও উপস্থিতেও ফাইল সিলমেরে ঘুষ বানিজ্যে মঞ্জুরুল নামের এক ব্যক্তির তথ্য জানা যায় । তথ্য নিয়ে জানা গেছে,ঢাকা কাস্টমসে এই সমস্য অনেক মুখোশধারী সাংবাদিকরাও জানে এবং এই সব মুখোশধারী সাংবাদিকদের মাঝে আবার মোস্তফা নামের এই ব্যক্তি প্রতি সপ্তাহে ১৫০০০ টাকা (পনেরো হাজার টাকা)প্রদান করে ম্যানেজ করেন এমন তথ্যও মেলে। একবার এশিয়ান টিভি একটি টিম অনুসন্ধানে গেলে এই মোস্তফাকে হাতেনাতে টাকা নেয়া ও সিল মারা চিত্র দেখে ক্যামেরায় ভিডিও করলে সে সময় মোস্তফা তাদেরকে টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে,শুধু মোস্তফা নয় একই ভাবে সাবিনাও টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে, এর সঙ্গে কাস্টমসের এক কর্মকর্তা আরিফও সে সময় জড়িত ছিলো,তবে বর্তমান এই কাস্টমস কর্মকর্তা আরিফ ট্রান্সফার হয়ে গেছে গোপন সূত্রে জানা যায়। আরও তথ্য নিয়ে জানা যায়, লিমন নামে এক ব্যক্তি যার নিজেরই সিএন্ডএফ লাইসেন্স রয়েছে আর সে লাইসেন্সের ভিত্তিতে ঢাকা কাস্টম মাল খালাস করে দেয়ার কথা বলে পন্য ছাড়ানোর কথা বলে অন্য গ্রাহকদের নিকট থেকে বিভিন্ন ভাবে টাকা নিয়ে প্রতারণার করে থাকে এমনও শোনা যায়। এই লিমন কখনো বিকাশে আবার কখনো রকেটে সিএনএফের মাল ছাড়ানোর কথা বলে টাকা নেয়ার এর পর মাল না ছাড়িয়েই টাকা নিয়ে লাপাত্তা হয়ে যায়,এভাবেই চলে ঢাকা কাস্টমস হাউসে গ্রাহকদের পণ্য ছাড়ানো প্রতারণা । আর এ ধেেরন তথ্য আবার ঢাকা কাস্টমস হাউজের ডিসি,কমিশনারাও কাছ পর্যন্তও যায় না। এ বিষয়ে সিএন্ডএফ লাইসেন্সধারী অনেক প্রতিষ্ঠানে মালিক পক্ষরা গণমাধ্যকে জানান,এভাবে যদি আমাদের পণ্য খালাস জন্য প্রত্যেক টেবিলে টেবিলে ঘুষ দিতে হয় আর বহিরাগতে কাছে আমরা প্রতারণা শিকার হই তাহলে আমরা কিভাবে পারবো আমাদের প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখতে? তারা আরো জানান, আমরাও কিভাবে গ্রাহকের কাছ থেকে এনবিআরের শুল্ক তালিকা অনুযায়ী পণ্য ছাড়াবো? এ সম্পর্কে গত ৩০ এপ্রিল ঢাকা কাস্টমস হাউসের জনপ্রশাসন বিভাগে তথ্য জানতে গেলে অফিসের কোনো কর্তৃপক্ষের খোজ মেলেনি। এদিকে ভুক্তভোগীদের মধ্যে কয়েকজনে নিকট প্রশ্ন করে সংবাদমাধ্যম জানতে চায়,আপনারা কেনো এই সব বহিরাগতদের টাকা দেবেন ফাইল স্বাক্ষরের জন্য? তখন তারা জানান এটা বাংলাদেশ,আর এখানে টাকা(ঘুষ) না দিলে ফাইল স্বাক্ষর কখনো হবে না,তাই তো বাধ্য হয়ে টাকা দিতে হয়,তাছাড়া,আমরাও চাই সঠিক ভাবে সরকারি রাজস্ব দিতে, কোনো প্রতিষ্ঠান চায় না সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিতে, কিন্তু এভাবে দুনীতিবাজ কাস্টমস কর্মকর্তাদের ঘুষ দিতে আমরাও রাজি না,তবে ফাইল স্বাক্ষরে জন্য আমাদের এমন বাধ্য করা হয়, তাই শুল্ক ফাঁকি দিতে হয়! ২০২৪ইং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে মধ্য দিয়ে ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকারের পদত্যাগের কিছু দিন এই ধরনে দুনীতি বন্ধ থাকলে পরবর্তীতে ঠিক একই ভাবে আবারও শুরু হয় বিভিন্ন কাস্টমস কর্মকর্তাদের সিল মেরে সিএনএফ লাইসেন্সধারীদের নিকট থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়ার মত দুনীতি।এদিকেঢাকা কাস্টম হাউসের তৃতীয় তলার লং রুমে তথ্য নিতে সাংবাদিক যেতে চাইলে প্রবেশ দ্বারে বসে থাকা সিকিউরিটি গার্ডের রিয়াজ উদ্দিন বাধাদেন এবং কার কাছে যাবে এমন ধরনে প্রশ্ন করে সংবাদমাধ্যমকে নাজেহাল করেন তিনি। তবে ভিতরে প্রবেশ করে দেখা যায়,শুল্ক টিম-৮ এর বুলবুলি ও শাহ আলম সিএন্ডএফ প্রতিষ্ঠানের চাকরিরত ব্যক্তিদের কাছ থেকে টাকা নিচ্ছেন এবং পেপাসে সিল মারছেন। আর এই বুলবুলি ও শাহ আলমরা ঢাকা কাস্টমসে কোনো নিয়োগ প্রাপ্ত কর্মচারীও না তারা। শুধু তাই নয় এই সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তাকে তার মোবাইলে কোনো সংবাদকর্মী কল দিয়ে কাস্টমস হাউসে তথ্য জানার জন্য তার রুমে সাক্ষাৎ করতে চাইলে তিনি সংবাদকর্মীর আর ফোন রিসিভ করেন না। এদিকে ভুক্তভোগী সিএন্ডএফ প্রতিষ্ঠান গুলোর কর্মরতরা জানান,বহিরাগতদের আগমন ও কাস্টম কর্মকর্তাদের সিল দিয়ে টাকা নেয়া এমন ধরনের অন্যায় থেকে আমরাও পরিত্রান পেতে চাই,তারা আরো জানান,আমরাও চাই কাস্টমস হাউসে বহিরাগতদের আগমন বন্ধ হউক এবং কাস্টমস কর্মকর্তারা আইপিও মেনে চলুক, তাহলে সরকারও সঠিক ভাবে রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হবে না।