সবুজবাংলা২৪ডটকম, ঢাকা : রাজধানীর উত্তরে বসবাস করেন শক্তিমান অভিনেত্রী ডলি জহুর। তিনি শত শত অভিনয় করে দর্শকদের মন জয় করেছেন। তার একান্ত সাক্ষাতকারে তিনি বলেন আমি বেঁচে থাকতে চাই সারা দেশের মানুষের মাঝে। তথ্য নিয়ে জানা যায়, তিনি এ পর্যন্ত ১৬৬টা ছায়াছবিতে কাজ করেছেন। এছাড়া অনেক লেখকের লেখা নাটকেও বিভিন্ন চরিত্রে কাজ করেছেন তিনি। তাঁর অধিকাংশ চরিত্র বেশিরভাগ মায়ের ভুমিকায়। তিনি কারোর কাছে ডলি আপা,কারোর কাছে ডলি ভাবী আবার কারোর কাছে মা হিসেবে পরিচিত। তিনি এক সময় থিয়েটার, মঞ্চ কামানো অভিনেত্রী ছিলেন এবং এখনো তিনি কাজ করেই চলেছেন। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, আপনার আমার বাসায় এসেছেন আমার সম্পর্কে জানেন কিন্ত প্রতিবেদন করার প্রয়োজন নেই, এক পর্যায়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলে,আপনাদেরই এক সাংবাদিক বন্ধু আমার ্এক সাক্ষাৎকার নিয়ে শুরু এবং শেষ টুকু না রেখে মাঝে কথা নিয়ে প্রতিবেদন করেছিলেন,শুধু তাই নয় আমার স্বামী যখন অসুস্থ ছিলেন তখন যদিও আমার টাকার প্রয়োজন হলে আমি চলচিত্র সমিতিতে সহযোগীতা চাইলেও সেই সহযোগীতা পাইনি। এটা সত্য যে অনেক প্রযোজকের কাছে এখনো আমি অনেক ছবির টাকা পাবো,তা এ কথা আপনাদেরই এক সহকর্মীকে বললে তিনি ঢালাও ভাবে প্রতিবেদন করে আমাকে হেয়ো করেছিলেন। তাতে আমি কিছুটা দুঃখ পেয়েছি। তিনি আরো বলেন, বর্তমান চলচিত্র শিল্প মুখ থুবড়ে পড়েছে এবং আগের মতো ভালো কোনো লেখকের গল্পও নেই তাই আজ শিল্পীরা কাজও করতে পারছে না। এই শিল্পটাকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে সরকারে পাশাপাশি দর্শকদেরও এগিয়ে আসতে হবে।
এদিকে এই গুনি অভিনেত্রী ডলি জহুরের সংক্ষিপÍ জানা, ডলি জহুর ১৯৫৩ সালের তৎকালীন পাকিস্তান অধিরাজ্যের পূর্ববঙ্গের ঢাকা জেলার ধানমন্ডিতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা মফিজুল ইসলাম ছিলেন একজন সরকারি চাকরিজীবী এবং মা মালেকা বানু। সূত্রে জানা যায়, খুব অল্প বয়সেই অভিনয় শুরু করেন জহুর । তাঁর ভাই তাঁকে ছোটবেলায় থেকেই বিভিন্ন অভিনয়ের কাজের জন্য অডিশন দিতে নিয়ে যেতেন। ১৯৭৪-৭৫ সালের দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় তিনি মঞ্চে অভিনয় শুরু করেন। সেই সময় তিনি নাট্যচক্র এবং ছায়ানটে ভর্তি ছিলেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য মঞ্চাভিনয়ের মধ্যে রয়েছে‘ মানুষ’ নাটকে সন্ধ্যা রানী, ’ময়ূর সিংহাসন’ এবং ‘ইবলিশ‘। ডলি জহুরের উল্লেখযোগ্য ছায়াছবিবাংলাদেশের কিংবদন্তি অভিনেত্রী ডলি জহুর ১৬০টিরও বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন, যার মধ্যে১৯৯২ সালে ‘শঙ্খনীল কারাগার’ ও ২০০৬ সালে ‘ঘানি’ চলচ্চিত্রের জন্য তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। তাঁর অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র গুলোর মধ্যে রয়েছে তার মধ্যে কয়েকটি হচ্ছে-’বাবা কেন চাকর’,“আগুনের পরশমণি”, “আনন্দ অশ্রু”,“সন্তান যখন শত্রু”,“দারুচিনির দ্বীপ”, “রং নাম্বার”, “এবাদত”, “নিরন্তর”। তিনি বলেন,বর্তমান তিনি কয়েকটা শ্যুটিং নিয়ে কাজ করছেন,তবে আগের মতো অর্থাৎ ৯০-২০০০ দশকের মতো রাইটারদের ভালো লেখা গল্প-কাহিনি পাইনা।তিনি আরো সাংবাদিকদের জানান,এ পর্যন্ত অনেক এ্যাওয়ার্ড পেয়েছে আর তাঁর এ্যাওয়ার্ড গুলো জাতীয় আর্কইভে দিয়ে দিয়েছেন। বাংলাদেশের চলচিত্র শিল্পকে বাঁচাতে হবে এবং দর্মকদের হল মুখি করার জন্য সরকারের পাশাপাশি দর্মকদেরও ভুমিকা রাখত হবে। তিনি একজন সিনিয়র অটিজ হিসেবে বর্তমান অভিনেতা-অভিনেত্রীদের উদ্দেশ্যে বলেন,অভিনয় একটি শিল্প,আর এই শিল্পটার মান ধরে রাখতে হলে আরেকটু ভালো অভিনয় করতে হবে সমাজে গ্রহনযোগ্যতা ও দর্শকদের সামনে সুন্দর ভাবে ফুটিয়ে তুলতে হবে।