• সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:২০ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনাম :
মা-বোনদের কষ্ট লাঘবে এলপিজি কার্ড দেওয়া হবে : প্রধানমন্ত্রী কালবৈশাখী ঝড়ে গাছ পড়ে মা ও দুই মেয়ের মৃত্যু হাইকোর্টে এমপি মুফতি আমির হামজার আগাম জামিন ঢাকাস্থ পিরোজপুর ফোরামের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত কুমিল্লা নগর উদ্যানে বেপরোয়া বাণিজ্য, নিরাপত্তাহীনতায় ঝুঁকিতে দর্শনার্থী দূরপাল্লার বাসের নতুন ভাড়া প্রকাশ উচ্ছেদ হওয়া হকারদের দ্রুত পুনর্বাসনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ইরানের তেল কেনায় চীনের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিল যুক্তরাষ্ট্র কয়রায় সুন্দরবনের বনজ সম্পদ রক্ষা ও বনদস্যু নির্মূলে মতবিনিময় সভা নরসিংদীতে বিদ্যালয়ের মিড ডে মিলের বনরুটি দেখে প্রতিমন্ত্রীর অসন্তোষ প্রকাশ

হাঁটু ব্যথায় নামাজে কষ্ট কমাতে করণীয় উপায়

স্বাস্থ্য ডেস্ক :
Update : সোমবার, ২৩ মার্চ, ২০২৬

সবুজবাংলা২৪ডটকম, ঢাকা : পবিত্র রমজান মাস এবং তারাবী নামাজ মুসলিমদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। কিন্তু যারা দীর্ঘদিন ধরে হাঁটু ব্যথায় ভুগছেন, বিশেষ করে অস্টিওআর্থ্রাইটিস বা রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত, তাদের জন্য দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকা, রুকু ও সিজদা করা বা বারবার উঠা-বসা করা কষ্টকর হয়ে ওঠে। তবে সঠিক পরামর্শ ও প্রস্তুতি মেনে চললে হাঁটু ব্যথা থাকা সত্ত্বেও নামাজ নিরাপদে আদায় করা সম্ভব।

হাঁটু ব্যথা কেন হয়?
নামাজের সময় দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকা এবং একাধিক রাকাতে বারবার রুকু ও সিজদা করার কারণে হাঁটুর জয়েন্টে চাপ পড়ে। যাদের কার্টিলেজ ক্ষয়, লিগামেন্ট দুর্বলতা বা পেশির ভারসাম্যহীনতা আছে, তাদের ক্ষেত্রে ব্যথা ও ফোলা বাড়তে পারে। রমজানে পানিশূন্যতা ও ক্লান্তি পেশি ও জয়েন্টের শক্তি বাড়িয়ে দেয়।

করণীয় নির্দেশনা
১. নামাজের আগে হালকা ব্যায়াম
মসজিদে যাওয়ার আগে ৫–১০ মিনিট হালকা স্ট্রেচিং করুন। উরুর সামনের ও পেছনের পেশি সক্রিয় করলে হাঁটুর ওপর চাপ কমে।

২. হাঁটু সাপোর্ট ব্যবহার
প্রয়োজনে হাঁটু ব্রেস বা ইলাস্টিক সাপোর্ট ব্যবহার করা যায়। এতে জয়েন্ট স্থিতিশীল থাকে এবং ব্যথা কম অনুভূত হয়।

৩. চেয়ারে বসে নামাজ আদায়
মাটিতে বসা বা সিজদা করা কষ্টকর হলে চেয়ারে বসে নামাজ পড়া সম্পূর্ণ বৈধ। দাঁড়াতে অসুবিধা হলে বসে কিরাত শুনে ইশারায় রুকু ও সিজদা করা যায়।

৪. দীর্ঘ সময় একটানা দাঁড়িয়ে না থাকা
সম্ভব হলে মাঝেমধ্যে বিরতি নিন। ৮ রাকাত শেষে বিশ্রাম নিয়ে পরবর্তী রাকাত আদায় করুন।

৫. সঠিক জায়নামাজ ও স্থান নির্বাচন
নরম বা পুরু জায়নামাজ ব্যবহার করলে হাঁটুর ওপর চাপ কমে। শক্ত মেঝেতে সরাসরি সিজদা এড়িয়ে চলা ভালো।

৬. তারাবীর পর যত্ন
নামাজ শেষে ১০–১৫ মিনিট বরফ সেক দিন। হালকা ম্যাসাজ ও পা উঁচু করে বিশ্রাম নিলে আরাম পাওয়া যায়।

৭. পানি ও পুষ্টি
ইফতার ও সেহরিতে পর্যাপ্ত পানি পান করুন। ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার জয়েন্টের স্বাস্থ্যে সহায়ক।

৮. নিয়মিত ফিজিওথেরাপি
দীর্ঘদিন হাঁটু ব্যথা থাকলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শে ব্যায়াম ও থেরাপি গ্রহণ জরুরি। সঠিক ব্যায়াম হাঁটুর শক্তি ও নমনীয়তা বাড়ায়।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে?

হাঁটু ফুলে গেলে, লালচে হয়ে গেলে, হঠাৎ তীব্র ব্যথা শুরু হলে বা হাঁটতে কষ্ট হলে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

তারাবী নামাজ আত্মিক প্রশান্তি ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের একটি অনন্য সুযোগ। হাঁটু ব্যথা থাকলেও সঠিক প্রস্তুতি, সহায়তা ও চিকিৎসা পরামর্শ মেনে চললে নিরাপদে ইবাদত আদায় সম্ভব। নিজের শারীরিক সীমাবদ্ধতাকে সম্মান করে সুস্থভাবে নামাজ পড়াই বুদ্ধিমানের কাজ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category