সবুজবাংলা২৪ডটকম, মাধবদী (নরসিংদী) : মাধবদীর বহুল আলোচিত আমেনা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় বইছে। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ থেকে শুরু করে প্রশাসন, মিডিয়াকর্মী, বিশিষ্টজন ও সাধারণ নাগরিক—সবার কণ্ঠে একই দাবি, আমেনা হত্যার দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
ইতোমধ্যে নরসিংদীর মাধবদীতে কিশোরী ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে কিশোরীকে বাবার সামনে থেকে তুুলে নিয়ে ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত ২ জন এবং সালিসের নামে প্রহসন করে আমেনাকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগে স্থানীয় বিএনপি নেতা ও সাবেক এক ইউপি সদস্যসহ মোট ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা হলেন—মহিষাশুড়া ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য আহাম্মদ আলী দেওয়ান (৬৫), মো. এবাদুল্লাহ (৪০), মো. আইয়ুব (৩০), মো. ইমরান দেওয়ান (৩২) এবং গাফফার (৩৪)। এর মধ্যে গাফফার ও এবাদুল্লাহ সরাসরি ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে। তবে প্রধান আসামি নূরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে।
গত ২৬ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) রাতে নিহত কিশোরী আমেনা বেগম (১৫) এর মা ফাহিমা বেগম বাদী হয়ে মাধবদী থানায় ৯ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে রাতেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট পৃথক অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে আটক করেন।
ঘটনার প্রকাশ যে গত ১৫ দিন আগে নূরার নেতৃত্বে ৫/৬ জন বখাটে ওই কিশোরীকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে। এই ঘটনায় স্থানীয় মেম্বার ও ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আহম্মদ আলী দেওয়ান বিচার করার দায়িত্ব নেন। তবে অভিযোগ উঠেছে, তিনি অপরাধীদের সঙ্গে রফাদফা করে মোটা অংকের অর্থ আত্মসাৎ করেন এবং কোনো বিচার না করেই ঘটনাটি ধামাচাপা দেন এবং ধর্ষিতার বাবা ও তার পরিবারকে গ্রাম ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেন। ঘটনার বিচার না হওয়ায় অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। ধর্ষণের ১৫ দিন পর বখাটে চক্রটি ভিকটিম কিশোরীকে তার বাবার সামনে থেকেই ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরে তাকে পুনরায় গণধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করে মাধবদীর মহিষাশুরা ইউনিয়নের কোতালিরচর দড়িকান্দীর একটি সরিষা ক্ষেত্রে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে গতকাল ২৭ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার সকালে পৃথকভাবে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক, নরসিংদী সদর আসনের নবনির্বাচিত এমপি খায়রুল কবির খোকনসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তাঁরা প্রত্যেকেই দ্রুত বিচার নিশ্চিতের আশ্বাস দিয়েছেন। স্থানীয় এলাকাবাসীরা বলেন, আমরা আশা করি পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার করে সকল অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। ন্যায়বিচারই হোক আমেনার প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা। এই নির্মম ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রশাসনের তৎপরতা এবং জনমতের চাপ এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।