সবুজবাংলা২৪ডটকম, ঢাকা : বর্তমান সময়ে অফিসের কাজ থেকে শুরু করে বিনোদন-সবক্ষেত্রেই ল্যাপটপ আমাদের নিত্যসঙ্গী। দীর্ঘ সময় ব্যবহারের ফলে স্ক্রিনে ধুলোবালি, আঙুলের ছাপ ও জেদি দাগ পড়া স্বাভাবিক। তবে এই দাগ পরিষ্কার করতে গিয়ে আমরা অনেকেই সাধারণ কাপড় বা টিস্যু ব্যবহার করি, যা ল্যাপটপের সংবেদনশীল স্ক্রিনের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। সঠিক পদ্ধতি না জানলে সাধের ল্যাপটপটি অকেজো হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
ল্যাপটপের ডিসপ্লে সুরক্ষিত রেখে ঝকঝকে করার নিরাপদ উপায়গুলো নিচে আলোচনা করা হলো-
১. ল্যাপটপ বন্ধ ও আনপ্লাগ করা :
পরিষ্কার করার আগে অবশ্যই ল্যাপটপটি পুরোপুরি বন্ধ (ঝযঁঃ উড়হি) করে দিন এবং চার্জার বা পাওয়ার কেবল খুলে ফেলুন। এটি কেবল বৈদ্যুতিক সুরক্ষাই নিশ্চিত করে না, বরং স্ক্রিন কালো থাকায় ধুলাবালি ও দাগগুলো স্পষ্ট বোঝা যায়।
২. সঠিক কাপড়ের নির্বাচন (মাইক্রোফাইবার)
সাধারণ সুতির কাপড়, টিস্যু পেপার বা তোয়ালে দিয়ে স্ক্রিন মুছবেন না। এগুলোতে থাকা ক্ষুদ্র তন্তু স্ক্রিনে স্থায়ীভাবে স্ক্র্যাচ ফেলে দিতে পারে। ল্যাপটপ মোছার জন্য সবসময় মাইক্রোফাইবার ক্লথ ব্যবহার করুন, যা স্ক্রিনের কোনো ক্ষতি না করেই ধুলো শুষে নেয়।
৩. হালকা হাতে বৃত্তাকার মোশন
স্ক্রিন মোছার সময় কখনোই জোরে চাপ দেবেন না। মাইক্রোফাইবার কাপড় দিয়ে আলতো করে বৃত্তাকার পদ্ধতিতে (ঈরৎপঁষধৎ গড়ঃরড়হ) মুছুন। এতে খুব সহজেই দাগ ও ধুলো উঠে আসবে এবং পিক্সেলের ওপর চাপ পড়বে না।
৪. তরল ক্লিনারের সঠিক প্রয়োগ
বাজারে ল্যাপটপ স্ক্রিন পরিষ্কারের জন্য লিক্যুইড ক্লিনার পাওয়া যায়। তবে মনে রাখবেন, কখনোই সরাসরি স্ক্রিনে স্প্রে করবেন না। প্রথমে মাইক্রোফাইবার কাপড়ে সামান্য ক্লিনার স্প্রে করে কাপড়টি ভেজান, তারপর তা দিয়ে স্ক্রিন মুছুন। সরাসরি স্প্রে করলে লিক্যুইড ল্যাপটপের ভেতরে ঢুকে সার্কিট নষ্ট করতে পারে।
৫. পানি ব্যবহারে সতর্কতা
যদি ক্লিনিং সলিউশন না থাকে, তবে সাধারণ ট্যাপের পানির বদলে অল্প পরিমাণে ডিস্টিলড ওয়াটার ব্যবহার করতে পারেন। এক্ষেত্রেও কাপড়টি সামান্য ভিজিয়ে নিয়ে মুছতে হবে।
৬. নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ
সপ্তাহে অন্তত একবার ল্যাপটপের স্ক্রিন পরিষ্কার করার অভ্যাস করুন। এতে ময়লা জাঁকিয়ে বসতে পারে না এবং আপনার ল্যাপটপটি নতুনের মতো ঝকঝকে থাকে।