• মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ০৩:২৬ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনাম :
৫ থেকে ৭ দিনের ভেতরে রামিসা হত্যা মামলার বিচার শেষ হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু সোমবার, রাতেই মিনায় যাবেন হাজিরা ২৪ঘন্টায় হাম ও উপসর্গ নিয়ে আরও ১৬ জনের মৃত্যু মিয়ানমার সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণে নিহত ৩ বাংলাদেশি ফরিদপুরে বাসের ধাক্কায় অ্যাম্বুলেন্সের ৫ যাত্রী নিহত পাঁচ দফা দাবিতে পাবনায় বিড়ি শ্রমিকদের মানববন্ধন পিরোজপুরে ইসলামী ব্যাংকের পাচারকৃত টাকা ফেরত আনার দাবিতে মানববন্ধন ইসলামী ব্যাংক ধ্বংসের পায়তারা বন্ধ এবং এস আলমকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের দাবিতে কুড়িগ্রামে মানববন্ধন জিয়ানগরে ঈদুল আজহা উপলক্ষে ভিজিএফের চাল বিতরণ এক মাসের মধ্যে রামিসার হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে : ময়মনসিংহে প্রধানমন্ত্রী

ধানমন্ডি আবাসিক এলাকায় আওয়ামী ফ্যাসিস্ট দোসরের দখলে শতকোটি টাকার জমি

নিজস্ব প্রতিবেদক :
Update : রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬

সবুজবাংলা২৪ডটকম, ঢাকা : রাজধানীর অভিজাত ধানমন্ডি আবাসিক এলাকায় শতকোটি টাকারও বেশি মূল্যের একটি পরিত্যক্ত প্লট ঘিরে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ। সরকারি তালিকাভুক্ত পরিত্যক্ত সম্পত্তি হওয়া সত্ত্বেও রহস্যজনকভাবে সেটি ব্যক্তিমালিকানায় নেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কিছু কর্মকর্তা, প্রভাবশালী মহল এবং একটি শক্তিশালী ভূমিদস্যুচক্র ধানমন্ডির পরিত্যক্ত ১৮ কাঠা প্লট ঘিরে জাল আমমোক্তারনামা, প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের দখলচেষ্টা আদালতের রায় উপেক্ষার অভিযোগ সিন্ডিকেটের সমন্বিত তৎপরতায় রাষ্ট্রীয় এই সম্পত্তি হাতছাড়া হওয়ার উপক্রম হয়েছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ধানমন্ডি আবাসিক এলাকার বাড়ি নং-৩২, প্লট ৩৩০ডি, ব্লক-সি, প্লট ৬১৩/৫৮, সড়ক নং-২৮ (পুরাতন)/১৫ (নতুন) এলাকায় প্রায় ১৮ কাঠা জমির মূল মালিক ছিলেন সৈয়দ আলী হাসান। ১৯৬১ সালের ১৬ ডিসেম্বর রেজিস্ট্রিকৃত লিজ দলিল নং-১১৫৩ এর মাধ্যমে তিনি জমিটির মালিকানা লাভ করেন এবং দীর্ঘদিন ভোগদখলে ছিলেন।
পরবর্তীতে ১৯৬৮ সালের ২ আগস্ট তিনি মৌখিকভাবে সম্পত্তিটি তার স্ত্রী ফরহাদ হাসানকে দান করেন। একই বছরের ২৬ অক্টোবর গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আইটি-৫৮/৮৪২ নম্বর স্মারকের মাধ্যমে তার নামে নামজারিও সম্পন্ন হয়। এরপর নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করে সম্পত্তির মালিকানা ভোগ করছিলেন তিনি।
তবে আর্থিক প্রয়োজনে ফরহাদ হাসান বাড়িটি বিক্রির সিদ্ধান্ত নিলে ১৯৮৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি এটিএম আব্দুল মান্নান ও সাহিদা বেগম ২০ লাখ টাকায় জমিটি কেনার প্রস্তাব দেন। সে সময় ১০ লাখ টাকা বায়না দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ১৯৯৭ সালে আরও ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়।
১৯৯৮ সালের ২৫ জানুয়ারি বাকি ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করে দলিল রেজিস্ট্রির অনুরোধ জানালে বিক্রেতা ফরহাদ হাসান হঠাৎ অতিরিক্ত ২০ লাখ টাকা দাবি করেন এবং দলিল রেজিস্ট্রি করতে অস্বীকৃতি জানান। এতে ক্রেতারা আদালতের দ্বারস্থ হন।
ঢাকার তৎকালীন তৃতীয় সাব-জজ আদালতে দায়ের করা দেওয়ানি মামলা নং-৪২/১৯৯৮ এর রায়ে ২০০০ সালের ২৪ জুলাই আদালত ফরহাদ হাসানকে ৩০ দিনের মধ্যে এটিএম মান্নান ও সাহিদা বেগমের নামে সাফ-কবলা দলিল রেজিস্ট্রি করার নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন না হওয়ায় পরবর্তীতে আদালতের আদেশে ২০০০ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর মোহাম্মদপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল নং-৩৯৮৯ এর মাধ্যমে সম্পত্তিটি রেজিস্ট্রি করা হয়।
কিন্তু এর মধ্যেই রহস্যজনকভাবে সম্পত্তিটি বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ‘পরিত্যক্ত সম্পত্তি’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়। এতে মালিকপক্ষ সেটেলমেন্ট কোর্টে আবেদন করলেও তা খারিজ হয়ে যায়। পরে তারা সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন নং-৫৪২৬/২০০৪ দায়ের করেন।
২০০৬ সালের ২৩ আগস্ট হাইকোর্ট সম্পত্তিটিকে পরিত্যক্ত হিসেবে ঘোষণাকে অবৈধ ঘোষণা করে তিন মাসের মধ্যে তালিকা থেকে অবমুক্ত করার নির্দেশ দেন। তবে সরকার আপিল করলে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ২০১২ সালের ৮ আগস্ট হাইকোর্টের রায় বাতিল করে সম্পত্তিটিকে পরিত্যক্ত সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্তিকে বৈধ ঘোষণা করেন ও বৈধ ঘোষণা করেন।
কিন্তু তথাপি গোলাম ফারুক দেওয়ান ও নারায়ণগঞ্জের আওয়ামী লীগের ফ্যাসিস্ট সাবেক এমপি শামীম ওসমানের ক্যাশিয়ারখ্যাত জয়নাল আবেদীন মোল্লা দখলাবস্থায় কিভাবে এখানে ডুপ্লেক্স বাড়ি করে স্বাধীনভাবে বসবাস করতেছে আইন কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে দেখিয়ে সেটাই ভাবার বিষয়। আইনজীবী ও ভূমি সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিত্যক্ত সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী তালিকাভুক্ত সম্পত্তি রাষ্ট্রের অধীনেই থাকার কথা। এ ধরনের সম্পত্তির ক্ষেত্রে পাওয়ার অবঅ্যাটর্নি বা জাল আমমোক্তারনামার মাধ্যমে ব্যক্তিমালিকানায় নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এছাড়া সরকারি সম্পত্তি ব্যক্তিমালিকানায় হস্তান্তর করতে হলে গেজেটসহ নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ বাধ্যতামূলক।
তবে অভিযোগ উঠেছে, মামলার দীর্ঘ প্রক্রিয়ার সুযোগ নিয়ে প্রভাবশালী একটি ভূমি সিন্ডিকেট এবং সংশ্লিষ্ট কিছু কর্মকর্তার মধ্যস্থতায় আপস-মীমাংসার আড়ালে জমিটি ব্যক্তিমালিকানায় নেওয়ার চেষ্টা চলছে। এতে রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি সরকারের দখলে আসছে না।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ধানমন্ডির এই জমিটির বর্তমান বাজারমূল্য শতকোটি টাকারও বেশি। অথচ পরিত্যক্ত সম্পত্তি হিসেবে সরকারের কাছে হস্তান্তর না হওয়ায় রাষ্ট্র বিপুল রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে নতুন করে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। সূত্র: দৈনিক ভোরের পাতা-১৬-০৩-২০২৬।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category