নিজস্ব প্রতিবেদক :
সবুজবাংলা২৪ডটকম, ঢাকা : ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের সামর্থ্য ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বর্তমান সরকার বহুমুখী উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং জরুরি সেবার মান উন্নয়নে সরকার ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে।
মঙ্গলবার রাজধানীর পূর্বাচলে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর মাল্টিপারপাস ট্রেনিং গ্রাউন্ডে আয়োজিত “ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ-২০২৬”, পদক বিতরণ এবং পাসিং আউট প্যারেড অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল এনডিসি’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে সারাদেশে ৫৩৮টি ফায়ার স্টেশনের মাধ্যমে সেবা প্রদান করা হলেও চাহিদার তুলনায় তা যথেষ্ট নয়। এ বাস্তবতায় সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি জানান, ইতোমধ্যে ২০টি ফায়ার স্টেশন নির্মাণ ও পুনর্র্নিমাণের কাজ চলমান রয়েছে। পাশাপাশি অ্যাম্বুলেন্স সেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ১০০টি নতুন অ্যাম্বুলেন্স সংগ্রহের কার্যক্রমও এগিয়ে চলছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, নৌযান দুর্ঘটনা মোকাবিলায় ডুবুরি দলের সক্ষমতা বাড়াতে ৭২টি নতুন পদ সৃষ্টির প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এছাড়া ফায়ার স্টেশনের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং সদস্য সংখ্যা ৩০ হাজারের বেশি করার লক্ষ্যে ফায়ার সার্ভিসের অর্গানোগ্রাম পুনর্গঠনের প্রস্তাবও বিবেচনাধীন রয়েছে।
প্রশিক্ষণের মানোন্নয়নে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স একাডেমি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সেবা সহজীকরণ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গত ১ মে থেকে অনলাইনভিত্তিক ই-ফায়ার লাইসেন্স কার্যক্রম চালু করা হয়েছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিতেও সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে।
তিনি জানান, সদস্যদের আবাসন সংকট নিরসনে ঢাকার মিরপুর ও সদরঘাট এলাকায় দুটি বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। একইসঙ্গে মিরপুরে নতুন সদর দপ্তর ভবন নির্মাণ প্রকল্পও বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।
এছাড়া “ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ ভাতা” এবং ফ্রেশ মানি চালুর বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী “ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ-২০২৬”-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন। পরে তিনি পাসিং আউট প্যারেড পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন।
পাসিং আউট প্যারেডে স্টেশন অফিসার ও স্টাফ অফিসার ক্যাটাগরিতে ১২ জন, ফায়ারফাইটার ক্যাটাগরিতে ১৫৮ জন, নার্সিং অ্যাটেনডেন্ট ক্যাটাগরিতে ২ জন, ড্রাইভার ক্যাটাগরিতে ৫৬ জন এবং ডুবুরি ক্যাটাগরিতে ৬ জনসহ মোট ২৩৪ জন অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে বহুমাত্রিক বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ৮৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর হাতে পদক তুলে দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পদকপ্রাপ্তদের মধ্যে ২০২৩ সালের ৩৪ জন এবং ২০২৪ সালের ৫০ জন সদস্য রয়েছেন।