• মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ০৪:৩৯ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনাম :
৫ থেকে ৭ দিনের ভেতরে রামিসা হত্যা মামলার বিচার শেষ হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু সোমবার, রাতেই মিনায় যাবেন হাজিরা ২৪ঘন্টায় হাম ও উপসর্গ নিয়ে আরও ১৬ জনের মৃত্যু মিয়ানমার সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণে নিহত ৩ বাংলাদেশি ফরিদপুরে বাসের ধাক্কায় অ্যাম্বুলেন্সের ৫ যাত্রী নিহত পাঁচ দফা দাবিতে পাবনায় বিড়ি শ্রমিকদের মানববন্ধন পিরোজপুরে ইসলামী ব্যাংকের পাচারকৃত টাকা ফেরত আনার দাবিতে মানববন্ধন ইসলামী ব্যাংক ধ্বংসের পায়তারা বন্ধ এবং এস আলমকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের দাবিতে কুড়িগ্রামে মানববন্ধন জিয়ানগরে ঈদুল আজহা উপলক্ষে ভিজিএফের চাল বিতরণ এক মাসের মধ্যে রামিসার হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে : ময়মনসিংহে প্রধানমন্ত্রী

জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে অতীতে কেউ রেহাই পায়নি, বর্তমান সরকারও পাবে না : ডা. শফিকুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক :
Update : শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬

সবুজবাংলা২৪ডটকম, রাজশাহী : জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও সম্মানিত আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “আপনারা জাতিকে ধোঁকা দিয়েছেন। ইতোমধ্যে তা স্বীকারও করে নিয়েছেন। আপনারা বলেছিলেন, আমরা জনগণকে যদি ধোঁকা দিই, তাহলে জনগণ আমাদের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করবে। সেটি দেখার জন্য আপনারা প্রস্তুত হোন।”
তিনি বলেন, “গণভোটের রায় অগ্রাহ্য করার অর্থ হচ্ছে এ দেশের জনগণকে অপমান করা, তাদের ভোটকে অস্বীকার করা এবং রায়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো। মনে রাখবেন, জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে অতীতে কেউ কোনোদিন রেহাই পায়নি, আপনারাও পাবেন না। সময় থাকতে সৎ পথে ফিরে আসুন। জাতির সঙ্গে গাদ্দারি-বেইমানি করবেন না। আপনারা বলুন, আমরা ভুল করেছি, আমরা গণভোটে জনগণের দেওয়া রায় বাস্তবায়ন করব। তবেই হয়তো জনগণ আপনাদের ক্ষমা করবে।”
আজ ১৬ মে শনিবার দুপুরে রাজশাহীর মাদরাসা ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজশাহী মহানগরীর সেক্রেটারি ইমাজ উদ্দিন মণ্ডল ও রাজশাহী জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি গোলাম মুর্তুযার যৌথ সঞ্চালনায় রাজশাহী বিভাগীয় সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি ও রাজশাহী অঞ্চল পরিচালক মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি।
বিভাগীয় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম, জামায়াতের নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি, এনসিপির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমীর ও নির্বাহী পরিষদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী, রাজশাহী মহানগরীর আমীর ড. মো. কেরামত আলী এমপি, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির আমীর মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমীর অধ্যাপক সিরাজুল হক, এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরা শারমিন, অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, রাজশাহী জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক আব্দুল খালেক, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আবু জার গিফারী, বগুড়া মহানগরীর আমীর অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান সোহেল, এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান ইমন, জয়পুরহাট জেলা আমীর মো. ফজলুর রহমান সাঈদ এমপি এবং পাবনা জেলার আমীর অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডল এমপি।
আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “অসংখ্য মানুষের ত্যাগ ও কোরবানির মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান হয়েছে। অনেকের ত্যাগ-কোরবানির মধ্য দিয়ে অনেকে প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা, মন্ত্রী, এমপি, সংসদ ও বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ পেয়েছেন। তাদের আত্মা আমাদের দিকে চেয়ে আছে। এই পরিবর্তন যখন হয়, তখন জানবাজ তরুণ-তরুণীরা বুক চিতিয়ে গুলির মুখে আন্দোলন গড়ে তুলেছিল।”
তিনি বলেন, “আমরা যখন বিরোধীদলে থেকে সাড়ে ১৫ বছর এই ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে দফায় দফায় আন্দোলন করেছি, তখন সেই ফ্যাসিবাদ পালিয়ে যায়নি। যেদিন এই তরুণ-তরুণীরা সিদ্ধান্ত নিয়ে সামনে এসেছিল, জনগণ তাদের ডাকে সাড়া দিয়েছিল। আন্দোলন সেদিনই সফলতার মুখ দেখেছিল। এখন সরকারি দলের বন্ধুরা কাউকে বলে শিশুপার্টি, আর কাউকে বলে গুপ্ত। যাদের জন্য আজকের গদি, তাদের উপহাস করায় সরকারি দলকে পাওনা বুঝে নেওয়ার জন্য প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানান আমীরে জামায়াত।”
সরকারি দলের সংস্কারের প্রবক্তা দাবির বিষয়ে আমীরে জামায়াত বলেন, “আপনারা নাকি সংস্কারের প্রবক্তা। আপনাদের আগে কেউ সংস্কার কর্মসূচি ঘোষণা করেনি। আপসোস! আপনাদের সংস্কার কর্মসূচির প্রথম দফার সঙ্গেই আপনারাই গাদ্দারি করছেন। বলছেন, সংবিধানের সংস্কার কী জিনিস, আপনারা তা বোঝেন না। আপনারা ইশতেহারে লিখেছিলেন, বাংলাদেশের কোথাও অনির্বাচিত জনপ্রতিনিধি থাকবে না। সরকার গঠনের পর ৪২ জেলায় ইতোমধ্যে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছেন। আপনারা নিজেদের ইশতেহারের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছেন।”
তিনি আরও বলেন, “আপনারা বলেছিলেন বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করবেন। এখন আপনারা অধ্যাদেশের বিরোধিতা করছেন এবং বলছেন এখন করবেন না। এর মানে হলো বিচার বিভাগকে হাতে রেখে নিজেদের আকাম-কুকামের প্রতিবাদ যখন জনগণ করবে, তখন বিচার বিভাগকে অতীতের ফ্যাসিবাদী কায়দায় জনগণের বিরুদ্ধে কাজে লাগাতে চান।”
আমীরে জামায়াত বলেন, “আমরা চেয়েছিলাম, ফ্যাসিবাদীরা যেমন করে গুম ও খুনের সংস্কৃতি চালু করেছিল, সেই গুমের সংস্কৃতিকে নির্মূল করার জন্য একটি স্বাধীন গুম কমিশন গঠন হোক। আপনারা তার বিরোধিতা করছেন। আপনারা স্বাধীন মানবাধিকার কমিশন মানছেন না। একটি নিরপেক্ষ কমিশনের মাধ্যমে পিএসপির নিয়োগও আপনারা মানবেন না। উল্টো পথে চলছেন। মনে রাখবেন, যে পথ ধরে স্বৈরাচার চলছিল, একই পথ ধরে আপনারাও হাঁটছেন। এই পথ থেকে যদি আপনারা ফিরে না আসেন, তাহলে স্বৈরাচারের পরিণতি যা হয়েছে, আপনাদের পরিণতিও ভিন্ন হবে না।”
তিনি বলেন, “মাত্র আড়াই মাস সংসদের মেয়াদে আমরা চাইনি আপনাদের শক্ত করে ধরতে; সুযোগ দিতে চেয়েছি। আপনারা নিজেদের ভুল সংশোধন করুন। আমাদের উদারতা যেন দুর্বলতা হিসেবে ধরা না দেয়। জনগণের বিরুদ্ধে মন্দ ও অন্যায় কাজ করলে প্রতিবাদে আমরা ইস্পাতের মতো কঠিন হয়ে দাঁড়াব। দেশ ও জনগণের কোনো ক্ষতি মেনে নেব না।”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category