• শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ১২:৫১ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]

গাইবান্ধায় পিকিং জাতের হাঁস পালনে স্বাবলম্বী সোহাগ

বায়েজিদ : / ৮ Time View
Update : শুক্রবার, ১০ মে, ২০২৪

সবুজবাংলা২৪ডটকম, গাইবান্ধা : সাম্প্রতিক গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ভাতগ্রাম ইউনিয়নের দক্ষিণ দুর্গাপুরের সাত বিল নামক স্থানে দেখা গেছে এই হাঁস খামার। সেখানে হাঁসগুলোর যতেœ ব্যস্ত ওই উদ্যোক্তা।
খন্দকার তৌফিকুর রহমান সোহাগ উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নের কিসমত গ্রামের খন্দকার আবু তৈয়ব এর ছেলে। তিনি ছাত্র জীবনে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স শেষে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছিলেন। সেই চাকুরী ছেড়ে গড়ে তুলেছেন হাঁসের খামার। ইতিমধ্যে এই খামার করে মানুষকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন।
জানা যায়, সোহাগ এক সময় বে-সরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের চাকরি করছিলেন। এরপর নিজেকে উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখেন। সেই স্বপ্ন থেকে ২০২০ সালে চাকরি ছেড়ে বাড়িতে ফেরেন। পরবর্তীতে বাড়ির পাশে সাত বিল নামক স্থানে নিজস্ব ১১ বিঘা জমিতে পুকুর বানিয়ে মাছ চাষ শুরু করেন।
এ থেকে অনেকটাই লাভবান হন তিনি। এরই এক পর্যায়ে চলতি বছরের মাংস উৎপাদনের জন্য শুরু করেন পিকিং জাতের হাঁস পালন। উন্মত্ত জলোসায় না, এসব হাঁস আবদ্ধ মাচা পদ্ধতিতে পালন করা হচ্ছে। প্রথমে সাড়ে ৩০০ বাচ্চা পালন করে ৬৫ হাজার টাকা খরচ বাদে লাভ দাঁড়িয়ে তার ৩০ হাজার টাকা। মাএ ৪৫ দিন পালনের পর মাংস উৎপাদনের জন্য এসব হাঁস বিক্রি করেন।
এরপর আর কখনো পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। উৎপাদিত হাঁস বিক্রির লাভের টাকা দিয়ে দিব্যি চলছে তার সংসার। ইতিমধ্যে মানুষের মাঝে প্রিয় হয়ে উঠেছে এই হাঁসের মাংস।
খামাটি দেখতে আসা আজগর আলী নামে এক ব্যক্তি বলেন, পানিতে হাঁস পালন দেখেছি। কিন্তু ঘরের মাচায় হাঁস পালন করা যায় তা কখনো দেখিনি। এই প্রথম সোহাগ ভাইয়ের খামারে দেখে অনেকটাই মুগ্ধ। এর মাংস বেশ সুস্বাদু। আমিও চিন্তা করছি এমন একটি খামার করব।
স্থানীয় এক কলেজের অধ্যক্ষ আমিরুল মোমেনীন সাগর বলেন, সোহাগ খন্দকার উন্নত জাতের হাঁস পালনে আর্থিকভাবে লাভবান হয় অনেকে উৎসাহিত হচ্ছে। পোল্টি শিল্পে এপারে অপার সম্ভাবনা দুয়ার।
উদ্যোক্তা খন্দকার তৌফিকুর রহমান সোহাগ জানান, অন্য এক খামারিকে অনুসরণ করে গড়ে তুলেছেন উন্নত পিকিং জাতের হাঁস পালন। আবদ্ধ মাচায় খামারটিতে বাচ্চা তোলা থেকে ৪৫ দিন পর প্রত্যেকটি হাঁসের ওজন হয় তিন থেকে পাঁচ কেজি। এখানে অল্প সময়ও কম খরচে অধিক লাভ করে।
তিনি আরো বলেন, কঠোর পরিশ্রম আর দৃঢ় মনোবল নিয়ে খামাটি পরিচালনা করছি। পাশাপাশি মাছ চাষও হচ্ছে। বর্তমানে হাঁসের খাবার ওষুধ শ্রমিক অন্যান্য খরচ বাদে মাসে প্রায় বিশ হাজার টাকা লাভ থাকছে। পাশাপাশি বেশ কয়েকজনকে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছি।
সাদুল্লাপুর উপজেলায় প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের ভেটেরিনারি সার্জন ডক্টর আবদুল্লাহেল কাফি বলেন, যে কোন কাজে পরিকল্পিতভাবে করলে অবশ্যই সফল হওয়া সম্ভব। এ উপজেলায় পিকিং জাতের হাঁসের খামার আর কোথাও নেই। উদ্যোক্তার সোহাগের খামারে গিয়ে পরামর্শ প্রদান করা হবে। যাতে তিনি আরো লাভবান হন সে ব্যাপারে সহযোগিতা থাকবে।

বিজ্ঞাপন

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

Categories