সবুজবাংলা২৪ডটকম, ঢাকা : গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যাকে ঘিরে দীর্ঘদিনের অবস্থান থেকে সরে এসে প্রথমবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রায় ৭০ হাজার ফিলিস্তিনিকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে ইসরায়েল। দেশটির সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ যে মৃত্যুর হিসাব প্রকাশ করেছে, তা মোটামুটি সঠিক বলেই তারা মনে করছে।
ইসরায়েলের এক জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে জানান, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় প্রায় ৭০ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। তবে এই হিসাবে নিখোঁজদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
গাজা যুদ্ধে মোট নিহতের সংখ্যা নিয়ে এটিই ইসরায়েলের প্রথম প্রকাশ্য স্বীকারোক্তি। এর আগে ইসরায়েল সরকার ও সেনাবাহিনী কেবল কতজন যোদ্ধা নিহত হয়েছেন, সে সংক্রান্ত তথ্যই প্রকাশ করতো।
গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের দাবি, ইসরায়েলি হামলায় সরাসরি নিহতের সংখ্যা এরই মধ্যে ৭১ হাজার ৬৬০ ছাড়িয়েছে। এ ছাড়া বোমা হামলায় বিধ্বস্ত ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে অন্তত ১০ হাজার মানুষ চাপা রয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যাদের সবাই মৃত বলেই ধরে নেওয়া যায়।
গত দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে ইসরায়েলি কর্মকর্তা ও গণমাধ্যম ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের এই পরিসংখ্যানকে ‘হামাসের প্রচারণা’ বলে আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করে আসছিল। এমন প্রেক্ষাপটে হঠাৎ অবস্থান পরিবর্তন ইসরায়েলের গাজা অভিযান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
জাতিসংঘের একটি কমিশন, বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন এবং গবেষকরা এরই মধ্যে গাজায় ইসরায়েলের অভিযানে গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন। এই প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলি দৈনিক হারেৎজ প্রশ্ন তুলেছে, এতদিন যেসব অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে, সেগুলোর কতটা সত্য প্রমাণিত হতে পারে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী আগে দাবি করেছিল, তারা গাজায় ২২ হাজার যোদ্ধাকে হত্যা করেছে। সেই হিসাব ধরলে, নিজেদের তথ্য অনুযায়ীই নিহতদের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি বেসামরিক মানুষ। যদিও ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর একটি গোপন ডেটাবেইস অনুযায়ী বেসামরিক নিহতের হার ছিল ৮৩ শতাংশ। এই হার আবার প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর আগে দেওয়া ৫০ শতাংশ দাবির চেয়েও অনেক বেশি।
টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে কতজন বেসামরিক, তা এখনো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তবে গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের দেওয়া মোট মৃত্যুর হিসাবকে ‘বৃহৎভাবে সঠিক’ বলেই মনে করছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। যদিও এক সামরিক মুখপাত্র এই সংখ্যাটি নিশ্চিত বা অস্বীকার করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, প্রকাশিত তথ্য ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর আনুষ্ঠানিক ডেটার প্রতিফলন নয়।
ফিলিস্তিনি ডেটাবেইসে নিহতদের যোদ্ধা ও বেসামরিক হিসেবে আলাদা করে দেখানো না হলেও অধিকাংশ নিহতের নাম, জন্মতারিখ এবং ইসরায়েলি পরিচয় নম্বর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অতীতে গাজায় সংঘটিত যুদ্ধগুলোর ক্ষেত্রেও দেখা গেছে, শেষ পর্যন্ত ইসরায়েল ও জাতিসংঘ স্বীকৃত মৃত্যুর সংখ্যা ফিলিস্তিনি তথ্যের কাছাকাছিই ছিল।
তবে ইসরায়েলি গণমাধ্যমে এই স্বীকারোক্তি নিয়ে তেমন আলোচনা হয়নি। অধিকাংশ বড় সংবাদমাধ্যম ব্রিফিংয়ে উপস্থিত থাকলেও হারেৎজ ছাড়া শুরুতে কেউই বিষয়টি গুরুত্ব দেয়নি। ইয়েদিওথ আহরোনোথ পত্রিকা কেবল যুক্তরাষ্ট্র, কাতার ও ইসরায়েলের কূটনৈতিক তৎপরতা নিয়ে এক প্রতিবেদনে এই সংখ্যার উল্লেখ করেছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান