সবুজবাংলা২৪ডটকম, নোয়াখালী : নোয়াখালীর সদর উপজেলায় ডাকাতির সময় সংঘটিত গণধর্ষণের ঘটনায় ডাকাত দলের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। গ্রেপ্তার হওয়া ইউসুফ ওরফে রুবেল (৩৭)। তিনি লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি থানার চরগাজী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চরলক্ষী গ্রামের আব্দুল হালিমের ছেলে। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে র্যাব-১১ (সিপিসি-৩) নোয়াখালী কার্যালয়ের কোম্পানি কামান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মুহিত কবীর সেরনিয়াবাত বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে, গতকাল সোমবার বিকেলে সাড়ে ৫টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১১ (সিপিসি-৩) নোয়াখালী ও র্যাব-৭ (সিপিএসসি) পতেঙ্গা, চট্টগ্রামের যৌথ অভিযানে নোয়াখালী সুধারাম মডেল থানাধীন সোনাপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। র্যাব জানায়, গেল বছরের ১১ জানুয়ারি রাত ২টার দিকে সদর উপজেলার কালাদরাপ ইউনিয়নে একটি বাড়িতে ডাকাতির সময় গণধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সুধারাম মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। এরপর মামলাটি র্যাব-১১, সিপিসি-৩, নোয়াখালী ছায়া তদন্তের মাধ্যমে অনুসন্ধান করে। তদন্তের একপর্যায়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত তিন পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দীর্ঘ অনুসন্ধান ও অভিযান পরিচালনা করে র্যাব অপর আসামি ইউসুফ ওরফে রুবেলকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে। নোয়াখালী কার্যালয়ের কোম্পানি কামান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মুহিত কবীর সেরনিয়াবাত আরও বলেন, গ্রেপ্তার আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে সুধারাম মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
নোয়াখালীতে হত্যাকারীর ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ
একেএম শাহজাহানঃ নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আপন ছোট ভাইয়ের দায়ের কোপে বড় ভাই নিহত হওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার আসামি হারুনুর রশিদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসী। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে বেগমগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সামনে এ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে নিহত আবু বকর ছিদ্দিক জামালের পরিবারের সদস্যসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।মানববন্ধনে নিহতের বড় ছেলে শিহাব উদ্দিন, মেজ ছেলে ফয়সাল উদ্দিন, ভাগিনা মো. ইব্রাহিম হোসেন, বিএনপি নেতা মো. সুজনসহ অন্যরা বক্তব্য দেন। বক্তারা হত্যাকারীর দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবি জানান। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ সকালে জমি ও ধানক্ষেত চাষ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে আবু বকর ছিদ্দিকের সঙ্গে তার ছোট ভাই হারুনুর রশিদের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে বাড়ির গেটের সামনে হারুনুর রশিদ ধারালো অস্ত্র (দা) দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আবু বকর ছিদ্দিককে গুরুতর আহত করেন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে সেদিনই তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর থেকে প্রধান আসামি হারুনুর রশিদ পলাতক ছিলেন। ঘটনার ১২ দিন পর র্যাব তাকে গ্রেপ্তার করে। সোমবার (১২ জানুয়ারি) বিকেলে নোয়াখালীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী দ্রুত বিচার কার্যক্রম শেষ করে দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।