• শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৬:৪০ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনাম :
ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে ১১ দলীয় ঐক্যের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ২০৯ জামায়াত ৬৮টি আসনে জয়ী : ইসি সচিব ভোট পুনর্গণনার আবেদনের চিন্তা করছি : গোলাম পরওয়ার শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চাইবে বিএনপি: সালাহউদ্দিন আহমদ নওগাঁর ৬টি আসনে বেসরকারি ভাবে এমপি হলেন যাঁরা নরসিংদীর ৫টি আসনে বিজয়ী বিএনপি দলীয় প্রার্থী জাতিকে যে ওয়াদা দিয়েছিলাম, তা পরিপূর্ণ করতে পেরেছি : সিইসি আমাকে মিসকোট করা হয়েছে: ইসি সচিব একটি দল জনগণের সমর্থন পাবেন না বুঝতে পেরে আগ্রাসী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে : এহসানুল মাহবুব জুবায়ের দক্ষিণ এশিয়ার শান্তি ও সহযোগিতায় সাংবাদিকতার ভূমিকা নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

দাঁড়িপাল্লায় বাজিমাত করতে চান রফিকুল ইসলাম খান

আমিনুল ইসলাম মল্লিক :
Update : সোমবার, ১২ জানুয়ারী, ২০২৬

সবুজবাংলা২৪ডটকম, ঢাকা : প্রবাদ আছে যে রাধে সে চুলও বাঁধে আর যার নয় বছরে কিছু হয় না সে কাজটি তার ৯০ বছরেও হয় না। অর্থাৎ সেবা করা বা নেতৃত্ব দেওয়ার বিষয়টি মানব জীবনের শিশুকাল থেকেই গড়ে উঠে। প্রস্ফুটিত হয় জীবনের বাঁকে বাঁকে। যিনি পারেন তিনি অজোঁপাড়া গা থেকেই পারেন। যিনি পারেন না তিনি সোনার চামচমুখে জন্ম নিয়েও পারেন না।
এমনই বাস্তবতার উজ্জল দৃষ্টান্ত সিরাজগঞ্জের কৃতি সন্তান মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান। ছোট বেলায় উল্লাপাড়ার অজোপাড়া গাঁ থেকে মাইলের পর মাইল পায়ে হেটে গিয়ে শিক্ষা অর্জন করেছেন। ভালো কোনো প্রতিষ্ঠান বা গাইডলাইন না থাকার পরেও মাদরাসায় অধ্যায়ন শেষ করে ভর্তি হয়েছেন উত্তরবঙ্গে শেষ্ঠ বিদ্যাপিঠ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে।
যুক্ত হন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সঙ্গে। এই সংগঠনের হাত ধরেই তিনি মানুষের কল্যানে নিজেকে বিলিয়ে দেন। সাংগঠনকি বিভিন্ন ধাপ ও পরীক্ষা পেরিয়ে নেতৃত্বের শীর্ষে চলে আসেন প্রত্যান্ত গ্রাম থেকে উঠে আসা এই নেতা। হল শাখা থেকে শুরু করে নির্বাচিত হন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র শিবিরের সভাপতি। সারাদেশে এক নামে পরিচিতি পান রফিক খান। দৃঢ় সাংগঠনিক দক্ষতা অসীম সাহস আর প্রজ্ঞার কারনেই তিনি পরবর্তীতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালায়ের সিনেট সদস্য। নির্বঅচিত হন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রদের সংগঠন রুয়ার সভাপতি।
পরবর্তীতে অবিভক্ত ঢাকা মহানগর জামায়াতের আমীর হিসেবে দায়িত্ব পালন করে বর্তমানে তিনি জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে কাজ করছেন। আর্তমানবতার সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে সাংগঠনিক সিদ্ধান্তে অংশ নেন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া-সলংগা) আসন থেকে ভোট পান রফিকুল ইসলাম খান ৯৭ হাজার ৪৬৩ ভোট আর আকবর আলী পান ২৩ হাজার ৫২০ ভোট।
নির্বাচনে আওয়ামী লীগ কারচুপির মাধ্যমে রফিকুল ইসলাম খানকে পরাজিত দেখায়। এরপর টানা তিনবার আওয়ামী লীগ বিতর্কিত নির্বাচন করে। গুমখুন হামলা মামলা করে বাড়িছাড়া করে বিএনপি জামায়াতসহ বিরোধীমতের লোকদের। আওয়ামী আক্রান্তের শিকার হয়ে জেল জুলুম চলে জামায়াতের এই শীর্ষ্য নেতার উপর দিয়ে। তার বিরুদ্ধে দেওয়া হয় শত শত মিথ্যা মামলা। জেলে ভরে রাখা হয় প্রায় ৫ বছরের বেশি সময়। এক মামলায় জামিন হলে আরেক মামলায় শ্যোন এরেস্ট দেখিয়ে কারাগারেই আটক করাখা হয় তাকে। বিধিবিধান ও বিচার বহির্ভূতভাবে তার মতো একজন সিনিয়র নেতাকে বার বার পড়ানো ডান্ডাবেরি। যা দেশ বিদেশি গণমাধ্যমে প্রচার হয়। শত বাধা বিপত্তি উপেক্ষ করে তিনি নিজে ও তার দলীয় নেতাকর্মীদের দ¦ারা নীরবে চালিয়ে যান আর্তমানবতার সেবা। গরীব অসহায় দুস্থ চিকিৎসাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ান তিনি।
এসব কাজের মাধ্যমে উল্লাপাড়া উপজেলায় জামায়াতে ইসলামী নির্বাচিত হন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানসহ কয়েকজন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। দীর্ঘ্যদিন সামাজিক কাজে মনোনিবেশ করায় তিনি ও তার দল জামায়াতে ইসলামী এখন মানুষের ভালোবাসার দল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। এ কারণে এ আসন থেকে বিপুল ভোটে জয়লাভ করতে আশাবাদী মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান। ২০২৪ সালের ৫ রআগষ্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তিনি অনবরত সময় দিচ্ছেন তার নির্বাচনী এলাকায়। যাচ্ছন মানুষের দ্বারে দ্বারে। বাদ দিচ্ছেন না সামাজিক অনুষ্ঠান আচার। ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানেও নিয়মিত উপস্থিত থেকে সবাই আগলে রাখছেন। এ আসনে আর্তমানবতার সেবায় রফিকুল ইসলাম খানের সেব কাজের প্রসংশা করছেন সাধারণ ভোটাররা। তাহলো তিনি নিজস্ব অর্থায়নে ও তত্ত্বাবধানে প্রায় ১০ হাজারটি নলকূপ স্থাপন, প্রায় ১০০টি ওযুখানা ১০টি নতুন মসজিদ নির্মাণ। এছাড়া নিজস্ব অর্থায়নে ও তত্ত্বাবধানে প্রায় ৩০,০০০ বন্যা দূর্গত পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ, শীত মৌসুমে প্রায় দেড় লাখ পরিবারের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ ও ৩০০টি পরিবারের মাঝে সেলাইমেশিন ও রিক্সা-ভ্যান বিতরণ করেছেন। বিভিন্ন সময় অগ্নিকা- ক্ষতিগ্রন্থ প্রায় ১০০টি পরিবারকে আর্থিক সহায়তা, নিজস্ব অর্থায়নে ও তত্ত্বাবধানে প্রায় ১৫ হাজার নাগরিককে চিকিৎসা সেবা এবং ২৫ হাজার দুস্থ ও অসহায় পরিবারকে খাদ্য সহায়তা প্রদান করেছেন। বিভিন্ন গ্রামে নিজস্ব তত্ত্বাবধানে সরকারি-বেসরকারি অর্থায়নে রাস্তা ঘাট সংস্কার ও নির্মাণ করেছেন। ২৫০টি পরিবারকে স্বাবলম্বী করার জন্য গরু ও ছাগল প্রদান করেছেন। সহস্রাধিক বেকার যুবকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন। প্রতিষ্ঠা করেছেন চেংটিয়া টেকনিক্যাল এন্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজ (বাঙ্গালা ইউনিয়ন) ও নন্দকুশা টেকনিক্যাল এন্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজ (রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন)।
উল্লাপাড়া-সলঙ্গাবাসীর জন্য তার রয়েছে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা। যা তিনি নির্বাচিত হলে বাস্তাবায়ন করার চেষ্টা করবেন। কৃষি, শিল্প ও বানিজ্য: কৃষিসমৃদ্ধ উল্লাপাড়ায় কৃষিতে আধুনিকায়নের জন্য কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন। কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ ও কৃষি পণ্যের ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিতকরণ। তাঁতবোর্ডকে সক্রিয়করণের মাধ্যমে বিলুপ্তপ্রায় তাঁতশিল্পকে সমৃদ্ধি ও আধুনিকীকরণ। সময়োপযোগী শিল্পকারখানা স্থাপন করে বেকার সমস্যা দূরীকরণে ভূমিকা রাখা। ডেইরি ফার্ম ও ফিসারীজ খাতকে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির আওতায় নিয়ে আসা। ব্যবসায়ীদের জন্য চাঁদাবাজ মুক্ত ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা ও বনিক সমিতির জন্য আধুনিক ভবন নির্মাণ করা।
সামাজিক ও অবকাঠামো উন্নয়নে যেসব চিন্তা: উল্লাপাড়া-সলঙ্গায় এখনও অনেক গ্রাম যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট ইত্যাদি নির্মাণে আরও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা। তরুন প্রজন্মকে মাদকমুক্ত রাখার নিমিত্তে খেলাধুলার জন্য স্টেডিয়াম নির্মাণ ও অত্যাধুনিক মিলনায়তন স্থাপন করা হবে ইনশাআল্লাহ। এছাড়া সলঙ্গায় একটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপন করা হবে ইনশাআল্লাহ।
শিক্ষা বিভাগ: অত্র অঞ্চলের বেকারত্ব সমস্যা দূরীকরণের জন্য সরকারি কারিগরি কলেজ প্রতিষ্ঠাসহ যুবকদের আধুনিক প্রশিক্ষণ প্রদানের স্থায়ী প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণ। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষ নাগরিক তৈরীর জন্য প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন এবং বিদ্যমান লাইব্রেরীকে সমৃদ্ধকরণ। তরুণ সমাজের মাঝে পাঠাভ্যাস গড়ে তোলার জন্য একটি সমৃদ্ধ ডিজিটাল পাবলিক লাইব্রেরী প্রতিষ্ঠা ও একটি সরকারি ভেটেরিনারি কলেজ স্থাপন করা হবে ইনশাল্লাহ।
স্বাস্থ্য বিভাগ: উল্লাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেকে আধুনিক ও উন্নত সুবিধাসম্পন্ন এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সমৃদ্ধ হাসপাতালে উন্নীত করে সকলের জন্য চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা। প্রতিটি ইউনিয়নে কমিউনিটি ক্লিনিক ভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম নিশ্চিত করে উল্লাপাড়া-সলঙ্গার সকল শ্রেণীর নাগরিককে স্বাস্থ্যসেবার আওতায় নিয়ে আসা। স্বাস্থ্যখাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধনের জন্য উল্লাপাড়ায় সরকারি নার্সিং ইন্সটিটিউট ও ম্যাটস স্থাপন করা হবে ইনশাল্লাহ ।
সামাজিক সুরক্ষা: ভিজিডি, ভিজিবি, প্রতিবন্ধী ভাতা, বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা, টিসিবিসহ সকল নাগরিক সুবিধা বিনামূল্যে প্রদান নিশ্চিত করা। মহিলাদের মৌলিক অধিকার সংরক্ষণ ও শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং কর্মক্ষেত্রে নারী হয়রানি বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে ইনশাল্লাহ।
ধর্মীয় সম্প্রীতি: ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের উপাসনালয়, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তায় সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণ ও তাদের সকল ন্যায়সংগত নাগরিক ও ধর্মীয় অধিকার নিশ্চিত করা। জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকল নাগরিকের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা করা হবে ইনশাল্লাহ।
রফিকুল ইসলাম খানের আহবান- আসুন, বঞ্চিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা, শিক্ষার সুষ্ঠ পরিবেশ তৈরী, চিকিৎসা সেবার উন্নয়ন, প্রশাসনকে দুর্নীতিমুক্ত করা, অবকাঠামো-টেকসই উন্নয়ন, মাদকমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত, দখলদারমুক্ত, ইভটিজিংমুক্ত, ইনসাফ ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন জনপদ হিসেবে উল্লাপাড়া-সলঙ্গাকে উন্নয়নের মডেলরূপে গড়ে তুলতে ইনসাফের প্রতীক দাঁড়িপাল্লা মার্কায় আপনার মূল্যবান রায় দিয়ে আমার হাতকে শক্তিশালী করুন। সুত্র: দৈনিক কলম সৈনিক


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category