সবুজবাংলা২৪ডটকম, ডুমুরিয়া (খুলনা) : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল, সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, “বিদ্যমান রাষ্ট্রব্যবস্থা সংস্কার করে একটি সুশাসন এবং ক্ষমতার ভারসাম্য, দুর্নীতিমুক্ত, বৈষম্যহীন, জনগণের অধিকার সংরক্ষিত করে এমন একটি রাষ্ট্রকাঠামো রাজনৈতিক দলগুলো সম্মিলিতভাবে সংস্কার প্রস্তাবের মধ্য দিয়ে যে কাঠামো গঠন করেছি, সেটা জুলাই সনদ নামে জাতির কাছে গৃহীত হয়েছে। আগামী গণভোটে জনগণের মতামতের জন্য পেশ হতে যাচ্ছে। এই গণভোটে, আমরা জনগণকে সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ বলার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। ‘হ্যাঁ’ কে জয়যুক্ত করতে হবে। ‘হ্যাঁ’ কে জয়যুক্ত করার মানে হচ্ছে দুর্নীতিকে না বলা, ফ্যাসিজমকে না বলা, দলীয়করণকে না বলা, ভিন্নমতের প্রতি দমনকে না বলা, বিচার, ভোটাধিকার, গণতান্ত্রিক এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পক্ষে ‘হ্যাঁ’ বলা। আগামী দিনে বৈষম্যহীন দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনের জন্য ভোটারদেরকে তিনি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে ‘হ্যাঁ’ কে জয়যুক্ত করার আহবান জানান।”
গতকাল মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) সকাল ১১টায় খুলনা-৫ আসনের ডুমুরিয়া উপজেলার সরকারি শাহ্পুর মধুগ্রাম কলেজ অডিটোরিয়ামে শাহপুর ইউনিয়ন ১, ২, ৩ ও ১২ নং ওয়ার্ড প্রতিনিধি সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ সব কথা বলেন।
ডুমুরিয়া উপজেলা নায়েবে আমীর গাজী সাইফুল্লাহ এর সভাপতিত্বে এবং উপজেলা যুব সভাপতি বি এম আলমগীর হোসেনের পরিচালনায় প্রতিনিধি সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক মিয়া গোলাম কুদ্দুস, জেলা ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট আবু ইউসুফ মোল্লা। অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন ডুমুরিয়া উপজেলা আমীর মাওলানা মোক্তার হোসেন, উপজেলা হিন্দু শাখা সভাপতি ডা. হরিদাস মন্ডল, উপজেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা হাফিজুর রহমান, মাস্টার মোস্তাক আহমেদ চৌধুরী, শেখ বিল্লাহ হোসেন, মাওলানা মোস্তফা কামাল, মাওলানা আব্দুল মান্নান প্রমুখ।
সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার জন্য প্রশাসনিক সর্বস্তরে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড অর্থাৎ সকল রাজনৈতিক দলের অধিকারের সুযোগ-সুবিধার সমতা রক্ষা করতে হবে। দেশে বিরাজমান সহিংসতা, সন্ত্রাস, গুলি বর্ষণ ইত্যাদি ঘটনায় দেশবাসী ও জাতি আজ উদ্বিগ্ন। এটা নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিতরা, নিয়োজিত কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট সকল মহলের সহযোগিতা এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও ভূমিকা অপরিহার্য।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে আচরণবিধি অনুসরণ করার ব্যাপারে আমরা আন্তরিক। কোনো কোনো দল নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড-এর নামে তফসিল ঘোষণার পর জনগণকে ওয়াদা, অনুদান, আর্থিক সুযোগ-সুবিধার যে সমস্ত প্রতিশ্রুতি দেয়, তা সুস্পষ্ট আচরণবিধি লঙ্ঘন। এটি নানান অডিও-ভিডিও’তে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হচ্ছে। সেগুলোর নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিবেচনায় নিয়ে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। তা না হলে জাতি সুষ্ঠু নির্বাচন এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যাপারে আশাবাদী হতে পারবে না।