সবুজবাংলা২৪ডটকম, মাধবদী (নরসিংদী) : শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে মাধবদী থানার বিভিন্ন পূজা মণ্ডপে হিন্দুধর্মালম্বীদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন ও পূজা মন্ডপগুলো পরিদর্শন করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত নরসিংদী সদর-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মো. ইব্রাহিম ভূঞা।
বুধবার ও বৃহস্পতিবার সন্ধায় তিনি মাধবদীর প্রায় ১০টি পূজা মণ্ডপ ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি পূজা উদযাপন কমিটি, স্থানীয় নেতা-কর্মী ও উপস্থিত সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। একই সঙ্গে দুষ্কৃতিকারীদের বিরুদ্ধে সজাগ থাকার আহ্বান জানান।
হিন্দুধর্মালম্বীদের সাথে মতবিনিময়কালে মো. ইব্রাহিম ভূঞা উপস্থিত সকলের উদ্দেশে আবেগভরা কণ্ঠে বলেন—
“আপনারা কখনোই নিজেদের সংখ্যালঘু মনে করবেন না। এই দেশ কারো একার নয়, এ দেশ আমাদের সবার সম্মিলিত দেশ। এখানে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান—সবাই মিলে আমরা একটি পরিবার। আপনারা এই মাটিরই সন্তান, তাই আপনাদের নিরাপত্তা, অধিকার ও মর্যাদা রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব।”
তিনি আরো বলেন, “আপনাদের যেকোনো দুঃসময়ে, যেকোনো বিপদ-আপদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আপনাদের পাশে থাকবে, আপনাদের প্রথম ভরসাস্থল হবে। এ দেশকে সবার জন্য শান্তি, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের ঠিকানা করে তুলতে একসঙ্গে কাজ করাই আমাদের লক্ষ্য।”
মাধবদীতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের বদলে মিলছে ‘শতভাগ’ লোডশেডিং,জনজীবনে চরম দুর্ভোগ
মাধবদী (নরসিংদী) সংবাদদাতা: “ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ”- এই স্লোগানে দেশজুড়ে শতভাগ বিদ্যুতায়নের সাফল্য ঘোষণা করা হলেও, বাস্তবে সেই সাফল্য যেন এক নির্মম পরিহাস হয়ে দাঁড়িয়েছে। শতভাগ বিদ্যুতায়িত এলাকার তকমা পাওয়া শিল্পাঞ্চল নরসিংদীর মাধবদী শহরের বাসিন্দারা এখন শতভাগ লোডশেডিংয়ের অন্ধকারে ডুবে আছে। প্রতি নিয়তই লোড শেডিংয়ে অতিরিক্ত খরা আর গরমে চরম দুর্ভোগে রয়েছেন এলাকাবাসী। গত কয়েক দিন ধরে এলাকায় ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। শিল্প শহরের পৌর এলাকায় একবার বিদ্যুৎ গেলে টানা দুই ঘণ্টা বিদ্যুৎ মিলছে না। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ফলে রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় বেকায়দায় পড়ছেন বয়স্ক ও শিশুরা। চলমান পরিস্থিতিতে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অফিস-আদালত, কল-কারখানা, হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, বিভিন্ন স্কুল, কলেজের শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, কৃষক ও সর্বসাধারণকে পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি। মাধবদীর পাওয়ারলোম কল-কারখানার এলাকায় বিদ্যুতের সংকট বেশি হওয়ায় খেটে খাওয়া শ্রমিক সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পল্লী বিদ্যুতের সীমাহীন উদাসীনতা ও অব্যবস্থাপনার কারণে পুরো শিল্পাঞ্চলে বিদুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, কার্যত যা এই অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রাকে জিম্মি করে ফেলেছে নরসিংদী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ অফিস। অন্ধকারের করুন চিত্র-দিনের সিংহভাগ সময় বিদ্যুৎ থাকছে না এই শিল্পাঞ্চল খ্যাত মাধবদীতে। সন্ধ্যার পর রাত নামলেই পরিস্থিতি আরও ভাংকর। ঘণ্টার পর ঘন্টা বিদ্যুৎ না থাকায় এখানকার জনজীবন প্রায় আচল হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এ অঞ্চলে ছোট-বড় প্রায় দু’হাজারের অধিক পাওয়ারলোম, কল-কারখানা রয়েছে। ঘন ঘন লোড শেডিংয়ের কারণে কাপড় উৎপাদন কমে যাওয়ার ফলে মালিক শ্রমিকদের মজুরি দিতে না পেরে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে আর যেগুলো চলেছে তাও বন্ধ হওয়ার পথে। এখানে ছোট-বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও সমস্যা দেখা দিচ্ছে এবং কৃষিকাজে সেচ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বাসা-বাড়ি ও দোকানপাটের ফ্রিজে রাখা খাবার নস্ট হচ্ছে অহরহ। প্রচন্ড গরমে শিশু ও বয়স্কদের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতেও বিদ্যুৎ সংকটে স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, শিল্পাঞ্চল হিসেবে চহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ অত্যন্ত কম মিলছে তাই বাধ্য হয়ে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। সরবরাহ না বাড়লে সামনে ভোগান্তি আরও বাড়বে। সারা দেশেই বিদ্যুৎ চাহিদার তুলনায় কম দেয়া হচ্ছে। মেইন লাইন থেকে আমরা পরিমিত বিদ্যুৎ পাচ্ছি না। এটা জাতীয় সমস্যা। খরার পরিমান বাড়ায় বিদ্যুতের অতিরিক্ত চাহিদাও বেড়েছে, বৃষ্টি নামলে সমস্যা দূর হবে বলেও মত ব্যক্ত করেছেন। তা ছাড়া অতিরিক্ত চাহিদার জন্য যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
স্থানীয় ভূক্তভোগীরা জানান, “আমাদের মাধবদী শিল্পাঞ্চলকে শতভাগ বিদ্যুতায়নের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখন বিদ্যুৎ থাকে না বললেই চলে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আমরা হয়তো সর্বোচ্চ ৭-৮ ঘন্টা বিদ্যুৎ পাই। বাকিটা সময় ঘন অন্ধকারে ডুবে থাকি। পল্লী বিদ্যুৎ যেন আমাদের জিম্মি করে রেখেছে। আরো বলেন, দেশের অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করতে পল্লী বিদ্যুতে কিছু ঘাফটি মেরে থাকা লোক রয়েছে। এসব অসৎ লোক বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সৃষ্টি করছে। তারা বর্তমান সরকারকে হেয় প্রতিপন্য করতে এমন কাজে লিপ্ত হয়েছেন বলে দাবি স্থানীয়দের।