সবুজবাংলা২৪ডটকম, ঢাকা : বাঁশখালিস্থ বড়ঘোনার এস আলম পাওয়ার প্ল্যান্ট কর্তৃক ড্রেজিং বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিশ্ক্রিয়তা এবং ব্যর্থতা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে বালুমহাল আইন-২০১০ এর বালুমহাল বিধি-৫ লঙন কেন আইনগত কর্তৃত্ব বহি:র্ভূত ও বেআইনী ঘোষণা করা হবে না এবং কেন অবৈধভাবে এই বালু উত্তোলনের কাজ বন্ধের নির্দেশনা দেওয়া হবে না তাও জানতে চেয়েছেন আদালত।
এস আলম গ্রুপ কর্তৃক গন্ডামারা ড্রেজিং ইকোনোমিক জোন-১ ও ২ তৈরী করে সমুদ্রের ব্রেক ওয়াটার অপসারণ করা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।
আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে বন ও পরিবেশ মন্ত্রনালয়ের সচিব, এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মাদ সাইফুল আলম, এসএস পাওয়ার প্ল্যান্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, চট্টগ্রামের বাঁশখালি উপজেলা সহকারী ভূমি অফিসারসহ মোট ১৪ জন বিবাদীকে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) এ বিষয়ে এক রিট আবেদনের শুনানি করে বিচারপতি বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি বিশ্বজিৎ দেবনাথের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আজ আদালতে রিটকারীর পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মাদ ফারুক হোসেন। তিনি আদেশের বিষয়টি ঢাকা মেইলকে জানিয়েছেন।
এর আগে গত ৯ সেপ্টেম্বর রিটটি দায়ের করেন গন্ডামারা বরগুনা বহুমুখী সমবায় সমিতির সহকারী সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন।
মামলার বিবরন থেকে জানা গেছে, এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় জেলেদের কর্মব্যস্ততার প্রাণকেন্দ্র। প্রায় সময় এ জেটিঘাট থেকে তিন হাজারেরও বেশি জেলে নৌকা ও সাম্পান নিয়ে গভীর সাগরে মাছ আহরণে যান এবং জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন।
কিন্তু সম্প্রতি এস আলম গ্রুপের কয়লাবাহী লাইটার জাহাজ ভিড়ানোকে কেন্দ্র করে এ জেটিঘাটে জেলেদের জীবিকা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জাহাজের ধাক্কায় বসানো জাল ছিঁড়ে যাওয়া, রাতের আঁধারে সাম্পানে ধাক্কা লেগে দুর্ঘটনা ঘটার মতো ঘটনাও নিত্যদিনের হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমনকি নৌকা ডুবিয়ে দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয় জেলেরা।
এমন প্রেক্ষাপটে গত ১ সেপ্টেম্বর দুপুরে গন্ডামারা পশ্চিম বড়ঘোনা জেটিঘাট এলাকায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন ক্ষতিগ্রস্ত জেলেরা। বিক্ষোভ প্রতিবাদে অংশ নেওয়া জেলেরা অভিযোগ করে বলেন, জেটিঘাট থেকে মাছ ধরতে প্রতিদিন ২০-৩০ কিলোমিটার দূরে যেতে হয়। সাগর থেকে মাছ নিয়ে ফেরার সময় প্রকল্পের লোকজন মাছ দাবি করে, না দিলে নৌকা ভিড়তে দেওয়া হয় না। এতে তাদের জীবিকা হুমকির মুখে পড়ছে। এ ছাড়া ইলিশ মৌসুমে চার মাসব্যাপী ব্যবসা-বাণিজ্যের মূল ভরসা এই ঘাট। কিন্তু নানা বাধার কারণে এখন এ অঞ্চলের অর্থনীতি মারাত্মক সংকটে পড়ছে।
জেলেরা আরও বলেন, প্রকল্পের কারণে তাদের ঐতিহ্যবাহী জীবিকা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। তাই অবিলম্বে নৌকা ও সাম্পান নিরাপদে জেটিতে ভিড়ার নিশ্চয়তা প্রদান এবং স্থানীয়দের জন্য এস আলম গ্রুপে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার দাবি জানান তারা।
এস এস পাওয়ার প্ল্যান্ট সূত্রে জানা গেছে, এই পাওয়ার প্ল্যান্টটি দেশের বৃহত্তম একটি প্রকল্প। এই প্রকল্প নির্মিত হওয়ার পর জেটিঘাটটি শুধু মাত্র প্রকল্পের কাজের স্বার্থে নির্মিত হয়েছে। এই জেটিঘাট এলাকাটি প্রকল্পের নিজস্ব জায়গা। স্থানীয় কয়েকজন জেলে এই ঘাটে বোট এবং জাল বসানোর ফলে লাইটার জাহাজগুলো কয়লা নিয়ে জেটিতে ভিড়তে পারে না। ইতোমধ্যে ড্রেজিং এর কাজ চলছে।
এস এস পাওয়ার প্ল্যান্টের কর্মকর্তারা বলেন, প্রতিনিয়ত লাইটার জাহাজগুলো জেটিতে আসতে শুরু করেছে। অনেক সময় আমাদের লাইটার জাহাজ গুলোতে চুরি ডাকাতি সংঘটিত হচ্ছে। এই সাম্পান (বোট) বা জাল বসানোর কারণে প্রজেক্টের অপারেশন কাজের ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে। নিরাপত্তার স্বার্থে আপাতত উক্ত জেটিতে কোনো রকম জাল বসানো বা বোট ভিড়ানো বন্ধে উক্ত এলাকায় মাইকিং করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে গন্ডামারা এস এস পাওয়ার প্লান্টের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেন, “জেটিঘাট এলাকাটি প্রকল্পের নিজস্ব জায়গা। বর্তমানে ড্রেজিংয়ের কাজ চলমান রয়েছে। জেলেদের নৌকা ভিড়তে দিলে কয়লাবাহী লাইটার জাহাজে বিঘ্ন ঘটে। তাছাড়া অনেক সময় জাহাজে চুরি-ডাকাতির ঘটনাও ঘটে। প্রকল্পের নিরাপত্তা ও কাজের স্বার্থে ওই জেটিতে জাল বসানো বা নৌকা ভিড়ার অনুমতি নেই।”