সবুজবাংলা২৪ডটকম, নরসিংদী : আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে নরসিংদী সদর উপজেলার চরাঞ্চল আলোকবালীর মুরাদ নগর গ্রামে। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে এক ব্যক্তি নিহত এবং আরো অন্তত দশ জন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে সদর উপজেলার আলোকবালী ইউনিয়নে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় এখনো চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
নিহতের নাম ইদন মিয়া (৫৫)। তিনি সদর উপজেলার মুরাদনগর গ্রামের বাসিন্দা। আহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দলীয় বিভাজন তৈরি হয়। মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, দখল ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ ক্রমেই তীব্র আকার ধারণ করে। এরই ধারাবাহিকতায় ভোরে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হলে ইদন মিয়াকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান এবং অন্তত আরও ১০ জন আহত হন বলে জানান।
অবৈধ বালু উত্তোলন এখন নরসিংদী জেলার জন্য এক ভয়াবহ অভিশাপে পরিণত হয়েছে। ড্রেজার মেশিনের দৌরাত্ম্য শুধু নদীর স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট করছে না, বরং কেড়ে নিচ্ছে নিরীহ মানুষের জীবনও। আর কত মা তাদের সন্তান হারাবেন, কত পরিবার শোকে ভেঙে পড়বে তা এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। এই অবৈধ ড্রেজারের বিরুদ্ধে প্রশাসনের নীরব ভূমিকা জনমনে গভীর প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। নীরবতা কি তবে মদদ দেওয়ার ইঙ্গিত? নাকি সাধারণ মানুষের জীবন ও পরিবেশের কোনো মূল্যই নেই তাদের কাছে এমন প্রশ্ন সাধারণ মানুষের।
নরসিংদী সদর থানার ওসি মোহাম্মদ এমদাদুল হক জানান, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে পূর্ববিরোধের জেরে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।
এদিকে এ ঘটনার সংবাদ পেয়ে নরসিংদী জেলার বেশ কয়েকজন সাংবাদিক তাদের মিডিয়ায় সংবাদ প্রচারের জন্য সকালেই নরসিংদী সদর হাসপাতালে গেলে একপক্ষ সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয়ে লাঠিসোটা দিয়ে মারধোর করতে থাকে এসময় যমুনা টিভির সাংবাদিক আইয়ুব খান সরকারের মাথায় ও শরিরে লাঠি দিয়ে বেধরক পিটিয়ে মাথা ফাটিয়ে ফেলে। পরে উপস্থিত লোকজন ও সাংবাদিকরা রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেন। এ ন্যাক্কারজনক ঘটনায় নরসিংদীতে তীব্র নিন্দা প্রতিবাদের ঝড় বইছে।

নরসিংদীতে দু’পক্ষে সংঘর্ষের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার যমুনা টিভির সাংবাদিক
নরসিংদী প্রতিনিধি : নরসিংদী সদর উপজেলার আলোকবালী ইউনিয়নে ভোরে ঘটে যাওয়া দু’গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন যমুনা টিভির নরসিংদীর স্টাফ রিপোর্টার আইয়ুব খান সরকার। আজ বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে নরসিংদী সদর হাসপাতালে সংবাদ সংগ্রহের জন্য অবস্থান করছিলেন তিনি। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তার উপর একপক্ষের সমর্থকরা এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। এসময় তার মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করলে মাথা ফেটে রক্তাক্ত হয়ে যায়। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানান নরসিংদী নবাগত পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম পিপিএম।
প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিকরা জানায়, সংবাদ সংগ্রহের জন্য হাসপাতাল কম্পাউন্ডে অবস্থান করছিলেন আইয়ুব খানসহ নরসিংদীর অন্যান্য সংবাদকর্মীরা। এসময় আলোকবালী ইউনিয়ন বিএনপির বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক কাইউয়ুমকে জড়িয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তার সমর্থকরা। এক পর্যায়ে তাকে বিভিন্ন লাঠিসোটা দিয়ে উপুর্যপরি আঘাত করলে মাথা ফেটে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে অন্যান্য সংবাদিক ও উপস্থিত লোকজনের সহায়তায় হাসপাতালের ভেতরে আশ্রয় নেন তিনি।
নরসিংদী সদর হাসপাতালের আরএমও ফরিদা গুলশানারা কবির জানান, ঘটনার পরে তাকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেয়া হয়। তার মাথার ডান পাশে চারটি সেলাই দেয়া হয়েছে। মাথায় ইনজুরির কারণে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
এদিকে সাংবাদিক আইয়ুব খান সরকারের উপর বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় তাৎক্ষণিক অভিযানে নামে পুলিশ। এ বিষয়ে নরসিংদী নবাগত পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম পিপিএম বলেন, সাংবাদিকের উপর হামলার ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে। দুষ্কৃতকারীদের ধরতে ইতিমধ্যে অভিযান অব্যাহত রেখেছে পুলিশ।
জানাগেছে বৃহস্পিতবার ভোরে আলোকবালী ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দু’গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ইদন মিয়া (৫৫) নামে একজন নিহত এবং অন্তত আরো ৫/৭ জন আহত হয়েছেন। এ সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে নরসিংদী সদর হাসপাতালে হামলার শিকার হন যমুনা টিভির সাংবাদিক আইয়ুব খান সরকার।
এ ঘটনায় নরসিংদীর যমুনা টিভির স্টাফ রিপোর্টার আইয়ুব খানের ওপর ন্যাক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সোস্যাল মিডিয়া ঝড় তুলছে সাধারণ মানুষ। এ ধরনের সন্ত্রাসী আক্রমন গণতন্ত্র ও স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য হুমকি। হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানান নরসিংদী জেলার সকল সাংবাদিকরা।