সবুজবাংলা২৪ডটকম, মাধবদী (নরসিংদী) : কাঁঠফাটা রোদ আর ভ্যাপসা গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা শিল্পাঞ্চল মাধবদীর জনজীবনে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় কম। মেঘ-বৃষ্টির এই খেলা চললেও কমছে না গরম। বরং গত ক’দিনে গরমের তীব্রতা আরও বেড়েছে।
টানা ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে শিল্পাঞ্চল নরসিংদী জেলার মাধবদীর খেটে খাওয়া মানুষগুলো। এর মধ্যেও থেমে নেই শ্রমজীবী মানুষের জীবন ও জীবিকা। বিশেষ করে মাধবদী পৌর শহরের মানুষেরা এই ভ্যাপসা গরমের কঠিন শিকার হয়ে পড়েছে। তাছাড়াও গরমে নিম্নআয়ের মানুষের স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যহত হয়ে পড়েছে। শিল্প শহরের শ্রমজীবী মানুষের আয় কমে যাওয়ায় পড়েছে বিপাকে। পৌর শহরের বিপণি বিতানসহ অন্য দোকানগুলোতেও কমে গেছে ক্রেতাদের ভিড়। নরসিংদীর মাধবদীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস এছাড়া পুরো জেলাতেও একই তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে। তাপমাত্রার পাশাপাশি বাতাসের আর্দ্রতাও অনেক বেশি। সেই সাথে সূর্যের তাপের প্রখরতা গরমের তীব্রতা বাড়িয়ে দিয়েছে অনেক বেশি।
মাধবদীর ম্যানচেস্টার চত্তরে বসে থাকা রিকশা চালক দুলাল মিয়া ও কামাল হোসেন বলেন, গত কয়েক দিন ধরে গরমের তীব্রতা এতোটাই বেশি যে রাতেও ঠিকমত ঘুমাতে পারছি না, আবার দিনেও প্রখর রোদের কারণে বেশি সময় রিকশা চালাতে পারছি না। দিনেরাতে সমানতালে তীব্র ভ্যাপসা গরম অনুভুত হচ্ছে। আর এই গরমের কারণে শহরে মানুষই বের হচ্ছে না। এজন্য ভাড়াও তেমন নাই। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কারও ১শ’ টাকাও রোজগার হয় নাই। এভাবে চললে আমাদের সংসার চালানো কষ্টকর হয়ে পড়বে।
মাধবদী পৌর শহরের স্কুল সুপার মার্কেটের বেশ কয়েকটি বিপণি বিতানের মালিকের সাথে কথা বললে তারা জানান, সারাদিনে একজন দু’জন গ্রাহকও আসে না। দোকান খুলে বসে থাকি কাস্টমার নেই। আসলে তীব্র গরমে মানুষ ঘর থেকে বের হওয়ার সাহস পাচ্ছে না।
মাধবদী প্রাইম জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. রায়হান আমির বলেন, ভাদ্র মাস মূলত প্রচন্ড গরমের মাস। ফলে এসময় প্রচন্ড গরমে ঘাম বেশি হয়, আর গরমও বেশি অনুভূত হয়। তাছাড়া বৃষ্টি কমে যাওয়ার ফলে আকাশ পরিষ্কার থাকে, সূর্যের তাপ সরাসরি মাটিতে পড়ে এবং তা থেকে তাপ বিকিরণ বাড়ে। আবার বাতাসে জলীয় বাষ্প বেশি থাকায় শরীর ঘাম ঠিকমতো শুকাতে পারে না। এর ফলে গরম বেশি লাগে, ক্লান্তি ও অস্বস্তি বাড়ে। এছাড়াও জলবায়ু পরিবর্তন প্রভাবের কারণে মৌসুমগুলো একটু এলোমেলো হচ্ছে। তাই ভাদ্রেও তীব্র গরম অনুভূত হয়। এই ভ্যাপসা গরমে শিশু ও বৃদ্ধরা অসুস্থ্য হচ্ছে বেশি। ঠান্ডা, জ্বর ও ডায়রিয়া জনিত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। তাই এসময় ফ্রিজ জাতীয় পানীয় পরিহার করার কথা বলেন এবং ডাব ও শরবত পান করার পরামর্শ দেন তিনি।