সবুজবাংলা২৪ডটকম, নোয়াখালী : নোয়াখালী সূবর্ণ চর উপজেলার ভূমি অফিসের অধিন জাহানারা আক্তার একজন ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা। তার স্বামী মোঃ রফিকুল ইসলাম একজন লোহার দরজা বিক্রিতা। জাহানারা আক্তার সরকারী চাকুরী জীবি হয়ে রাতারাতি ৯২ লক্ষ টাকার সম্পত্তি ও অর্ধ কোটি টাকার একটি ফ্ল্যাট খরিদ করায় অভিযোগ পেয়ে সূবর্ণ চর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তদন্ত করছেন। বিগত ০৭/০৪/২০২৫ইং তারিখে সরকারী চাকুরী বিধি মালা উপেক্ষা করায় জাহানারা আক্তারের বিরুদ্ধে নোয়াখালী পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের উত্তর ফকিরপুর গ্রামের ২ ব্যাক্তি সিরাজ উদ্দিন হেলাল ও মোঃ ইসমাইল জেলা প্রশাসক নোয়াখালী বরাবরে অভিযোগ দায়ের করেন। জেলা প্রশাসনের দায়ীত্বরত জেলা রাজস্ব (এস.এ) শাখার কর্মকর্তা রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর ২৬৬ নং স্মারকে গত ২৪/০৫/২০২৫ইং অভিযোগটির তদন্ত ও প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সূবর্ণ চর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ছেন মং রাখাইনকে নির্দেশ দেন। উক্ত কর্মকর্তা গত ২৮/০৮/২০২৫ইং তারিখে ১৬০নং স্মারকে অভিযোগকারী ও প্রতিপক্ষকে নোটিশ প্রদান করেন এবং গত ০৩/০৯/২০২৫ইং তারিখে অভিযুক্ত জাহানারা আক্তারের রাতারাতি অর্জিত সম্পত্তি খরিদের অর্থের উৎসহ ও অভিযোগ খানার উপর তদন্ত করেন। অভিযোগকারী সিরাজ উদ্দিন হেলাল জানান, নোয়াখালী পৌরসভার উত্তর ফকিরপুর গ্রামের মদিনা টাওয়ার নামীয় ৮ম তলা ভবনের বাসিন্দা জাহানারা আক্তার একজন ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা ও তার স্বামী রফিকুল ইসলাম হিরন একজন লোহার দরজা ব্যবসায়ী থাকার সুবাদে প্রায় ১০ কোটি টাকার মূল্যের মদিনা টাওয়ার নামীয় ৮ম তলা ভবন নির্মানে স্বামী ও স্ত্রীর বিপুল অর্থ ব্যয়, সম্পত্তি ও কয়েকটি ফ্ল্যাট খরিদ করার উৎসাহ খতিয়ে দেখতে অভিযোগটি দায়ের হয়। অভিযুক্ত জাহানারা আক্তার চাকুরীরত অবস্থায় বিগত ১৭/০৮/২০২২ইং তারিখে পৃথক পৃথক ২টি দলিলে ৩৭ লক্ষ টাকার সম্পত্তি খরিদ করে। যাহার দলিল নং ৮৭৩৪ ও ৮৭৩৭ এবং জাহানারা আক্তার মদিনা টাওয়ার নামীয় ভবনে ৫৫ লক্ষ টাকা মূল্যের একটি ফ্ল্যাট খরিদ করেন। যাহার পৌর হোল্ডিং নং ১৭০/০৫। সিরাজ উদ্দিন হেলাল আরো অভিযোগ করেন যে, রাতারাতি অর্জিত অর্থের উৎসাহ ও সম্পত্তি খরিদের ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য জাহানারা আক্তারের স্বামী রফিকুল ইসলাম নানামূখি প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। জাহানারা আক্তার ও তার স্বামী রফিকুল ইসলামের অনৈতিক কান্ড, রাতারাতি বিপুল অর্থ ও সম্পত্তি অর্জন এবং ফ্ল্যাট খরিদের উৎসাহের অধিকতর তদন্তের জন্য দূর্নীতি দমন কমিশনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন অভিযোগকারী দ্বয়।
সূবর্ণ চরে বিক্রিত ভূমিতে ক্রেতার জমা খারিজ খতিয়ান সৃজনের অভিযোগ
একেএম শাহজাহানঃ সূবর্ণ চর উপজেলার কাটাবুনিয়ার মৌজার ৮৮ শতক ভূমি আব্দুল খালেকের নিকট বিক্রি করেন সেক আহম্মদ গং। যাহার দলিল নং ২৭৪৫ , তারিখ-১৩/০৩/১৯৯৭ইং ভূমি বিক্রিতা সেক আহম্মদ গং উক্ত ভূমি বিক্রয়ের কথা গোপন রাখিয়া সূবর্ণ চর উপজেলা ভূমি অফিসে ২৫-২৫১৭/২০২৪-২৫ নং খতিয়ান সৃজন করেন। খবর পেয়ে ভূমি ক্রেতা মৃত আব্দুল খালেক এর স্ত্রী অজিফা খাতুন ও ২ কন্যা ফারজানা আক্তার ও বিবি নুর জাহান ভূমি অফিসে উক্ত খতিয়ান খতিয়ান বাতিল চেয়ে হয়রানি হচ্ছেন।
নোয়াখালীর আদালতের দোতলা থেকে লাফ দিয়ে হত্যা মামলার আসামির পালানোর চেষ্টা
একেএম শাহজাহানঃ নোয়াখালীতে আদালত ভবনের দোতলা থেকে হাতকড়াসহ লাফ দিয়ে হত্যা মামলার এক আসামি পালানোর চেষ্টা করেছে। তবে তাৎক্ষণিক পুলিশ স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে আটক করে। মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে নোয়াখালী জজ কোর্টের নারীও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর আদালতে শুনানি শেষে পুলিশ পাহারায় বেরিয়ে যাওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে। পালানোর চেষ্টা করা হত্যা মামলার আসামির নাম শাহাদাত হোসেন (৩০)। তিনি চাটখিলের বদলকোট ইউনিয়নের মেঘা এলাকার বাবুল হোসেনের ছেলে। পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালে শাহাদাত তার ৫বছর বয়সী চাচাতো বোনকে ধর্ষণ করে হত্যা করে। এরপর মরদেহ বস্তায় ভরে ফেলে দেন। এ ঘটনায় চাটখিল থানায় তার বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়। ওই মামলায় পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়। মঙ্গলবার সকালে নোয়াখালী কারাগারের বন্দি শাহাদাতকে কারাগার থেকে নারীও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর আদালতে আনা হয়। হাজিরা শেষে পুলিশ শাহাদাতকে আসামিদের হাজত খানায় নিয়ে যাচ্ছিলেন। এক পর্যায়ে দুপুর সোয়া ১২টার দিকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ আদালতের দোতলা ভবন থেকে হাতকড়াসহ লাফ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে আদালত ভবনের ফটক এলাকা থেকে তাকে আটক করে পুলিশ। যোগাযোগ করা হলে নোয়াখালী কোর্ট ইন্সপেক্টর শহীদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, মামলার শুনানি শেষে আসামিকে হাজতে নেওয়ার পথে হাতকড়াসহ পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। ঘটনার পর পরই পুলিশ তাকে ধাওয়া করে আটক করে।