সবুজবাংলা২৪ডটকম, নোয়াখালী : নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরএলাহী, চরফকিরা ও মুছাপুর ইউনিয়নে অবৈধ বালু মহালে অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত ও যৌথ বাহিনী। এসময় ছোট ফেনী নদী ও বামনী নদী থেকে ৭টি বালুবাহি বাল্কহেড (ট্রলার), ৯টি বালু উঠানোর ড্রেজার মেশিন, ৫টি বালু ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জমাকৃত কয়েক লাখ ফুট বালু জব্দ’সহ ১৮ জনকে আটক করা হয়েছে। পরে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে আটককৃতদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করা হয়। সোমবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দিনব্যাপী এ অভিযান পরিচালনা করেন, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানভীর ফরহাদ শামীম। অভিযানে সহযোগিতা করেন, সেনাবাহিনী, পুলিশসহ যৌথ বাহিনী। জব্দকৃত কয়েক লাখ ফুট বালুসহ বন্ধ করে দেয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো, নিউ মক্কা ট্রেডার্স, সেজান এন্টারপ্রাইজ, মদিনা ট্রেডার্স, নোয়াখালী ট্রেডার্স ও জেএসএস ট্রেডার্স। অভিযান সূত্রে জানা গেছে, চরএলাহি, চরফকিরা ও মুছাপুর ইউনিয়নের ছোট ফেনী নদী ও বামনীয়া নদী পথে প্রতিদিন বালুবাহী অনেকগুলো বাল্কহেড চলাচল করে। অবৈধ এই বাহন চলাচলে প্রশাসন থেকে একাধিক বার নিষেধাজ্ঞা দিলেও সেটি তারা অমান্য করে বাল্কহেড চলাচল অব্যাহত রাখে। নদী দিয়ে এ বাল্কহেড চলাচলের কারণে প্রচন্ড ঢেউয়ের তোড়ে নদীর তীরের আশপাশের মানুষের বসত ঘর ও বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙনের কবলে পড়ে। অতিরিক্ত বাতাসে বালু উড়ে শত শত শিক্ষার্থী ও পথচারী চোখের সমস্যা ও শ্বাস কষ্টে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে একাধিকবার মানববন্ধন করেছিলো স্থানীয় লোকজন ও একাধিক সামাজিক সংগঠন। বালুবাহি বাল্কহেড (ট্রলার) চলার কারণে সম্প্রতি ঝুঁকিতে পড়েছে চরএলাহী ব্রিজ’সহ আরও একাধিক স্থাপনা। সোমবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত সেনাবাহিনী ও পুলিশের সহযোগিতায় অভিযান পরিচালনা করে উপজেলা প্রশাসন। এ সময় বাল্কহেড ও ড্রেজার মেশিন জব্দ’সহ ১৮ জনকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ১জনকে ২০দিন ও অপর ১৭জনকে ১০দিন করে কারাদন্ড প্রদান করেন। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানভীর ফরহাদ শামীম অভিযানের বিষয় নিশ্চিত করে বলেন, অবৈধ ভাবে গড়ে ওঠা বালু মহালগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এসময় আটক ১৮জনকে দন্ডবিধির ১৮৬০এর ১৮৮ধারা অনুযায়ী কারাদন্ড দেয়া হয়েছে। জব্দকৃত বালুবাহী বাল্কহেড, ড্রেজার মেশিন ও জমাকৃত বালু প্রশাসনের জিম্মায় রয়েছে। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
নোয়াখালীতে আমেরিকা প্রবাসী স্বামীকে ভিডিও কলে রেখে স্ত্রীর আত্মহত্যা
একেএম শাহজাহান ঃ নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে আমেরিকা প্রবাসী স্বামীকে ভিডিও কলে রেখেই আত্মহত্যা করেছেন ফরিদা ইয়াছমিন (৩১) নামে এক গৃহবধূ। রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের শফিক হুজুরের বাড়ি থেকে তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত ফরিদা ইয়াছমিন সদর উপজেলার নোয়াখালী ইউনিয়নের দুলাল মিয়ার মেয়ে ও সোনাইমুড়ীর ভানুয়াই গ্রামের আমেরিকা প্রবাসী নুর নবীর স্ত্রী। স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রবাসী নুর নবী দীর্ঘদিন ধরে স্ত্রীকে নানা বিষয়ে কথা বলতেন। গত সাত মাস ধরে ফরিদা ভাড়া থাকছিলেন শফিক হুজুরের বাড়িতে। দুই রুমের ওই ভাড়া বাসায় চারটি সিসি ক্যামেরা বসিয়ে সর্বক্ষণ নজরদারিতে রাখতেন স্বামী। শনিবার রাতে পারিবারিক কলহের একপর্যায়ে বাসা থেকে বের হতে চাইলে নুর নবী তা অনুমতি দেননি। এরপর স্বামীকে ভিডিও কলে রেখেই বোরকা পরে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যা করেন ফরিদা। বাড়ির মালিক শফিক উল্যাহ বলেন, ফরিদা ছিলেন পর্দানশীন মহিলা। সাত মাসে আমি তার মুখও দেখিনি। শুধু ভাড়া ও বিদ্যুৎ বিল দেয়ার সময় পর্দার আড়াল থেকে কথা হতো। প্রায়ই স্বামী ফরিদার সঙ্গে ঝগড়া করতেন। এমনকি বেডরুমেও সিসি ক্যামেরা লাগিয়েছিল তার স্বামী নুর নবী। সকালে দরজা বন্ধ দেখে পুলিশকে খবর দেই। পরে পুলিশ এসে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে। নিহতের ভাই মাসুদ ও রাশেদ রানা অভিযোগ করে বলেন, আমার বোন ফরিদাকে তার স্বামী নুর নবী নজরবন্দি করে রেখেছিল। আমাদের কারো সাথে কথা বা যোগাযোগ রাখতে দিত না। যোগাযোগ করলে মিথ্যা অপবাদ দিত। স্বামীর চাপেই সে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছে। সিসি ক্যামেরা ও ভিডিও কলে ঘটনাটি দেখেও স্বামী কাউকে জানায়নি। অথচ বাড়িয়ালা ও পাশের ভাড়াটিয়ার নম্বর তার কাছে রয়েছে। আসলে নুর নবী চেয়েছিল আমার বোন ফরিদা মারা যাক। আমরা ন্যায় বিচার চাই। সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মোরশেদ আলম বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে সিসি ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি পারিবারিক কলহজনিত আত্মহত্যা বলে মনে হচ্ছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।