• রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০২:৪৮ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]

নোয়াখালীতে নারীসহ আটকের ভিডিও ভাইরাল: স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা বহিষ্কার

একেএম শাহজাহান :
Update : মঙ্গলবার, ১২ আগস্ট, ২০২৫

সবুজবাংলা২৪ডটকম, নোয়াখালী : নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে আটকের দুদিন পর মো. নোমান বাবুকে (৩৩) নামে এক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) দুপুরের দিকে নোয়াখালী জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের দপ্তর সম্পাদক মাহবুব ফাহাদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। সাময়িক বহিষ্কৃত মো.নোমান বাবু বেগমগঞ্জ পৌর সেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম-আহ্বায়ক ছিলেন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নোয়াখালী জেলা শাখার অধীনস্থ বেগমগঞ্জ পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম-আহ্বায়ক মো.নোমান বাবু আপনি দলের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় সংগঠন পরিপন্থি অসামাজিক কার্যকলাপে যুক্ত হয়েছেন। যাহা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ছাবের আহম্মেদ ও সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজানের নিকট সুনির্দিষ্ট তথ্য ও প্রমাণ রয়েছে। এ অসামাজিক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত থাকার কারণে আপনাকে বেগমগঞ্জ পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম-আহ্বায়ক পদ থেকে সাময়িক ভাবে বহিষ্কার করা হল। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মো.নোমান বাবু বলেন,আমাকে বহিষ্কারের বিষয়টি শুনেছি। তবে আমাকে একটি নারীসহ ফাঁসানো হয়েছে। যারা ফাঁসিয়েছে তারা এখন বলবে আমি নির্দোষ। প্রসঙ্গত, গত রোববার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে উপজেলার ৮নং বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের তফাদার গেইট এলাকার এক গৃহবধূর ঘরে অবস্থান করছিলেন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা নোমান বাবু । ওই সময় এলাকাবাসী তাদের আপত্তিকর অবস্থায় হাতেনাতে আটক করে। পরে খবর পেয়ে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ তাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে। এরপর তাকে আটকের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। নোয়াখালী জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বলেন, আমরা একটা ভিডিও পেয়েছি। তাতে আমাদের মনে হয়েছে এটি অসামাজিক কাজ। তাই ওই সেচ্ছাসেবক দল নেতাকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।

নোয়াখালী দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় ২টি রাস্তার সেলবেজ না কেটে বরাদ্দ করায় প্রায় ২ কোটি টাকার ক্ষতি
একেএম শাহজাহানঃ হাতিয়া উপজেলার এলজিইডি প্রকৌশলী মোঃ সাজ্জাদুল ইসলামের বিরুদ্ধে একই প্রকল্পে ২টি সড়কের সংস্কার কাজে সেলবেজ না কেটে বরাদ্দের ইস্টিমেট করায় সরকারের ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা ক্ষতি করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সরকারের আর্থিক ক্ষতি হলেও অনৈতিক ভাবে লাখ লাখ টাকা নিয়ে নিজের পকেট ভারী করতে ভুল করেননি প্রকৌশলী সাজ্জাদুল ইসলাম। এছাড়াও হাতিয়া পৌরসভার খবির মিয়া বাজার সংলগ্ন বঙ্গবন্ধু সড়কের সংস্কার কাজে ২০২২-২৩ অর্থ বছরে জিএনপি-৩ প্রকল্পের আওতায় নানা কৌশলে প্রায় ২ কোটি টাকার একাধিক বরাদ্ধ অনুমোদন করে নামেমাত্র কাজ করে ঠিকাদার থেকে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ আছে। স্থানীয় এলাকাবাসী জানায় এ সড়কটি শূন্য মিটার থেকে সংস্কার কাজ করার কথা থাকলেও তিনি ৫০০ মিটার অংশ থেকে কাজ করিয়েছেন। সড়কটির পিছনে মাথার ঐ অংশে আগে ইটের সলিং করা ছিল। যতটুকু ইটের সলিং ছিল ততটুকু নামেমাত্র কাজ করেছে। বাকি অংশের কাজ এখনো হয়নি। তার এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানান এলাকাবাসী। এছাড়াও তাছাড়া তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন নামের একাধিক প্রকল্প থেকে ঘুষ, দুর্নীতি, অনিয়ম, সরকারী অর্থ তছরুপ, স্বেচ্ছাচারিতা ও নারী কেলেংকারীর মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় ঠিকাদাররা জানা যায়, প্রকৌশলী মোঃ সাজ্জাদুল ইসলাম হাতিয়ায় যোগদানের পর থেকে অদ্যাবধি প্রতিটি প্রকল্পের বরাদ্ধ থেকে নানা রকম কুট কৌশলে তার পাকাহস্তে সকল অনিয়ম ও দুর্নীতি বীর দর্পে চালিয়ে যাচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে- স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে এডিপি, পিডিবি, জিএনপি-৩, আম্পান, এমডিএসপি, জিএসআইডিসহ সকল প্রকল্পের নিযোগ প্রাপ্ত ঠিকাদারদের নিকট হতে বিভিন্ন অজুহাতে কয়েক ধাপে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। ফলে মাঠে গিয়ে প্রকল্প সমূহের কাজ না দেখে ঠিকাদারদের মুখের কথায় বিভিন্ন প্রকল্পের কোটি কোটি টাকার বিলের চেকে স্বাক্ষর দিয়ে দিচ্ছেন। তার এ অনিয়ম ও দুর্নীতির সুযোগে নিয়োগপ্রাপ্ত ঠিকাদাররাও প্রকল্প সমূহের কাজের মান সিডিউল অনুযায়ী না করে খুব নিন্মমানের উপকরণ ব্যবহার করে সরকারের শত শত কোটি টাকা লুটপাট করে নিয়ে যাচ্ছে। তার এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য প্রমাণ এ প্রতিনিধির নিকট সংরক্ষিত আছে। এদিকে হাতিয়া উপজেলা এলজিইডির অফিস সূত্রে জানা যায়, সাবেক সরকারের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে গত ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে আম্ফান প্রকল্পের আওতায় চরঈশ্বর রায় ইউনিয়নের অর্ন্তভূক্ত রাজের হাওলা সড়কের ৫ কিলোমিটার রাস্তা সংস্কারের জন্য প্রায় ৭ কোটি টাকা বরাদ্ধ করা হয়েছে এবং বুড়িরচর ইউনিয়নের র্অন্তভূক্ত বারিয়া ঘোপাট সড়কের প্রায় আড়াই কিলোমিটার রাস্তার জন্য ৩ কোটি টাকা বরাদ্দ অনুমোদন করা হয়েছে। উক্ত ২টি সড়ক আগেই ২ লেয়ার ইটের সলিং করা ছিলো। এখানে উপজেলা প্রকৌশলী সাজ্জাদুল ইসলাম নিজে ও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে লাভবান করার উদ্দেশ্যে কৌশলে এ দুটি সড়কের সেলবেজ না কেটে মোট ১০ কোটি টাকা বরাদ্ধ করে ইস্টেমিট করেছে। পরে তার এ অনিয়ম স্থানীয় ভাবে জানাজানি হলে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধমে ভাইরাল হয়। এঘটনা থেকে সুচতুর ইঞ্জিনিয়ার সাজ্জাদুল নিজেকে বাঁচাতে সাবেক উপজেলা কর্মকর্তার মাধ্যমে বরাদ্ধকৃত সড়কে থাকা আগের ইটগুলো নামেমাত্র নিলামে দিয়ে দেয়। জানা যায়, নিলামকৃত ইট থেকে সরকার মাত্র ১৮/২০ লাখ টাকা রাজস্ব পেয়েছে। অথচ উক্ত নিলামকৃত ইটের বাজার মূল্য ছিল প্রায় ২ কোটি টাকা। যদি উক্ত ইটগুলো নতুন বরাদ্ধের সাথে যোগ করা হতো তাহলে সরকারের প্রায় ২ কোটি টাকা কম লাগতো। যা নিয়ম বর্হিভূত ভাবে করা হয়েছে। এবিষয়ে অভিযুক্ত হাতিয়া উপজেলা এলজিইডির ইঞ্জিনিয়ার মোঃ সাজ্জাদুল ইসলাম জানান, গত ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে আম্ফান প্রকল্পের আওতায় চরঈশ্বর রায় ইউনিয়নের অর্ন্তভূক্ত রাজের হাওলা সড়কের ৫ কিলোমিটার রাস্তা সংস্কারের জন্য প্রায় ৭ কোটি টাকা বরাদ্ধ করা হয়েছে এবং বুড়িরচর ইউনিয়নের র্অন্তভূক্ত বারিয়া ঘোপাট সড়কের প্রায় আড়াই কিলোমিটার রাস্তার জন্য ৩ কোটি টাকা বরাদ্দ অনুমোদন করা হয়েছে। উক্ত সড়ক ২টিতে সেলবেজ না কেটে বরাদ্দের ইস্টেমিট করার বিষয়টি ভুল বশতঃ হয়েছে। পরে তা সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে নিলাম দেয়া হয়েছে এবং সে টাকাগুলো সরকারের রাজস্ব খাতে জমা দেয়া হয়েছে। অপরদিকে জেল স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ মাহফুজুল হোসাইন এবিষয়ে বলেন, এ ঘটনাটি মৌখিক ভাবে আমাকে অনেকে জানিয়েছেন। এক্ষেত্রে তিনি যদি উক্ত সড়ক ২টির সেলবেজ না কেটে বরাদ্ধের জন্য ইস্টেমিট করে থাকেন তাহলে এক্ষেত্রে সরকার আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরে শুনলাম সেলবেজ না কাটা ইটগুলো নাকি সে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে নিলামের ব্যবস্থা করেছেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তবে নিলামের বিষয়টি নিয়ম বর্হিভূত ভাবে হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category