সবুজবাংলা২৪ডটকম, নোয়াখালি : ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে রাতের অন্ধকারে ড্রাইভার ও হেলপারকে মারধর করে খালে ফেলে রডবোঝাই একটি ট্রাক ডাকাতি করার সময় নোয়াখালীতে দুই ডাকাতকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এসময় ট্রাক ও রড উদ্ধার করা হয়। শনিবার (৯ আগস্ট) দিবাগত রাত ১২টার দিকে জেলার কবিরহাট উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড থেকে তাদের আটক করা হয়। আটককৃতরা হলেন-মধ্য সুন্দলপুর গ্রামের মফিজুর রহমান আনন্দ মাস্টারের ছেলে সোলেমান সুজন (৩৫) এবং কবিরহাট পৌরসভার উত্তর ঘোষবাগ গ্রামের ওমর আলীর ছেলে আবু ছায়েদ (৪২)। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার গভীর রাতে কবিরহাট বাজার ও ভূঁইয়ারহাট বাজারের মাঝামাঝি স্থানে দুই ব্যক্তি পুলিশের টহল গাড়ি থামানোর জন্য ইশারা দেন। তারা নিজেদেরকে ট্রাকের ড্রাইভার ও হেলপার পরিচয় দিয়ে জানান, কুমিল্লা থেকে নোয়াখালীর পথে আসার সময় একদল ডাকাত ট্রাকে উঠে অস্ত্রের মুখে মারধর করে এবং রডবোঝাই ট্রাকটি কবিরহাট এলাকায় নিয়ে আসে। ডাকাতরা তাদের মোবাইল ফোন ও টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নিয়ে রাস্তার পাশের খালে ফেলে দেয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যে পুলিশ ট্রাকের মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং মালিক ট্রাকের ট্র্যাকার চেক করে জানান, গাড়িটি কবিরহাট থেকে মাইজদীর দিকে যাচ্ছে। তৎক্ষণাৎ পুলিশ অভিযান চালিয়ে সুন্দরপুরের ৫নং ওয়ার্ডে রড আনলোডের শব্দ শুনে সেখানে গিয়ে হাতেনাতে দুই ডাকাতকে ট্রাক ও রডসহ আটক করে। কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া বলেন, “ড্রাইভার ও মালিকের তথ্যের ভিত্তিতে আমরা অভিযান চালাই। রড আনলোডের সময় ট্রাকসহ দুই ডাকাতকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন, তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
নোবিপ্রবিতে অ্যাকোয়াফুড রিসার্চ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত
একেএম শাহজাহান: নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ‘ক্লাইমেট-রেজিলিয়েন্ট অ্যাকোয়াটিক ফুড সিস্টেমস্ ফর হেলদি লাইভস্ অব ইয়াং উইমেন এন্ড গার্লস ইন বাংলাদেশ (অ্যাকোয়াফুড)’ শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।সোমবার (১১ আগস্ট) নোবিপ্রবি ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেলের (আইকিউএসি) সেমিনার কক্ষে আয়োজিত কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল। প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল বলেন, কোপেনহেগেন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আগত অতিথি নান্না রোস এবং বাকে ডি রোস সহ প্রিয় শিক্ষক, গবেষক এবং ছাত্রছাত্রী সকলকে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাগত জানাই। আমি চাই অত্যন্ত সময়োপযোগী এই গবেষণার মাধ্যমে সমাজের এবং দেশের কল্যাণে আপনারা পদচিহ্ন রেখে যাবেন। এই গবেষণা কোলাবোরেশনের ক্ষেত্রে একটা ভালো উদাহরণ হতে পারে।গত মাসে আমি পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুরে্যাগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের টিমের সঙ্গে নেদারল্যান্ডস্ ভ্রমণ করি এবং সেখানে আমরা কোস্টাল এরিয়া তথা লবণাক্ততা প্রবণ এলাকাতে কী ধরণের ফসল উৎপাদন করতে পারি তা নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব উপশমের ক্ষেত্রে খাপ খাওয়ানোটা বেশি জরুরী। এক্ষেত্রে আমাদের শিক্ষক এবং গবেষকগণ যৌথভাবে কাজ করার জন্য এগিয়ে আসতে হবে। আমরা অপুষ্টি এবং অন্যান্য রোগব্যাধি থেকে আমাদের দেশের মানুষকে রক্ষা করতে চাই। এক্ষেত্রে আমাদের টেকনোলজির সুফলকে ল্যাবরেটরি পর্যায় থেকে মার্কেট পর্যায়ে মানুষের কাছে নিয়ে যেতে হবে। আমি আশা করি এই কর্মশালা অ্যাকোয়াফুড এবং অ্যাকোয়াফিশের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ফিশারিজ এন্ড মেরিন সায়েন্স বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মেহেদী মাহমুদুল হাসানের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রেজওয়ানুল হক এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হানিফ। কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন, ফিশারিজ এন্ড মেরিন সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক এবং অ্যাকোয়াফুড রিসার্চ প্রজেক্ট, নোবিপ্রবির পিআই ড. আবদুল্লাহ-আল মামুন। এতে কি-নোট স্পিকার হিসেবে ছিলেন, অ্যাকোয়াফুড প্রকল্পের পিআই ডেনমার্কের কোপেনহেগেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. নান্না রোস এবং কো-পিআই, যুক্তরাজ্যের অ্যাবারডিন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. বাকে ডি রোস। কর্মশালায় ড. নান্না রোস অ্যাকোয়াফুড প্রকল্পের ওপর তার গবেষণালব্ধ তথ্যবহুল প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন এবং উক্ত গবেষণা মানব কল্যাণে কিভাবে কাজে আসবে তা ব্যাখ্যা করেন। এ সময় ড. বাকে ডি রোস প্রকল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বক্তব্য প্রদান করেন। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন নোবিপ্রবি ফুড টেকনোলজি এন্ড নিউট্রিশন সায়েন্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. রুহুল কবির। কর্মশালায় সমাপনী বক্তব্য রাখেন ফিশারিজ এন্ড মেরিন সায়েন্স বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মেহেদী মাহমুদুল হাসান।কর্মশালায় নোবিপ্রবি বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থীরা অংশ গ্রহণ করেন।