সবুজবাংলা২৪ডটকম, পলাশবাড়ী (গাইবান্ধা) : গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সিনিয়র স্টাফ নার্স আমেনা বেগমের (ঝর্ণা) উপর হামলা ও হাসপাতালের ভাঙচুরের ঘটনায় নার্স ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে চলমান দ্বন্দ্বের অবসান ঘটেছে। সম্প্রতি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে আয়োজিত এক সমঝোতা বৈঠকে এ ঘটনা মীমাংসা হয়।
উল্লেখ্য, গত ১১ জুন রাতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজিত স্বজনরা নার্স আমেনা বেগমের উপর হামলা চালায় এবং হাসপাতালে ভাঙচুর চালায়। হামলাকারী সিফাত এবং এমদাদুল পৌরসভার উদয়সাগর গ্রামের বাসিন্দা জানা গেছে। এই হামলায় নার্স আমেনা বেগমের মাথা ফেটে যাওয়া সহ তিনি গুরুতর আহত হয়েছিলেন। ঘটনার পর ভুক্তভোগী নার্স পলাশবাড়ী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
ঘটনার প্রেক্ষিতে গত ২৮ জুন (শনিবার) সকাল ১০টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হলরুমে একটি সমঝোতা বৈঠকের আয়োজন করা হয়। এতে উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনা হয়। আলোচনার একপর্যায়ে রোগীর স্বজনরা তাদের দায় স্বীকার করে দুঃখপ্রকাশ করেন এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও আহত নার্সের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তারা ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না করার প্রতিশ্রুতি দেন এবং হাসপাতালের ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ প্রদানে সম্মত হন।
বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সালাহউদ্দিন আহমেদ খান। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন পলাশবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জুলফিকার আলী ভুট্রো, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির আবু বকর সিদ্দিক, পলাশবাড়ী প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক সাংবাদিক আব্দুল মতিন, সাংবাদিক শামীম হাসান, হাসপাতালের নার্সবৃন্দ, অভিযুক্তদের আত্মীয়-স্বজন এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
বৈঠকে উপস্থিত পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, হাসপাতাল অতিগুরুত্বপূর্ণ একটি সেবাপ্রদানকারী প্রতিষ্ঠান। সেবাপ্রদান কার্যক্রম ব্যাহত হয় এমন কোনো কর্মকান্ড হাসপাতালে ঘটানো একটি অপরাধমূলক কর্মকান্ড বলে বিবেচিত।” তিনি আরো বলেন, “অদুর ভবিষ্যতে হাসপাতালে এসে কোনো দূর্বৃত্ত হামলা চালালে তাকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।”
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সালাহউদ্দিন আহমেদ সেবা প্রত্যাশীদের উদ্দ্যেশ্যে বলেন, “ডাক্তার এবং নার্সদের কাজই হলো রোগীর সেবা করা। সেই মানসিকতা থেকেই আমরা এই পেশায় এসেছি। তবে সেবা গ্রহণ করতে এসে একটু ধৈর্য্য ও সহনশীল হতে হয়। সেটি আমরা আপনাদের নিকট থেকে প্রত্যাশা করছি।
বৈঠকের শেষাংশে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও আহত নার্স আমেনা বেগম (ঝর্ণা বেগম) মানবিক বিবেচনায় অভিযুক্তদের ক্ষমা করে দেন এবং ঘটনার ধসরপধনষব ংবঃঃষবসবহঃ এর মাধ্যমে পরিবেশ শান্তিপূর্ণভাবে পুনঃপ্রতিষ্ঠা পায়।
স্থানীয়ভাবে এ ধরনের পদক্ষেপকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন সচেতন মহল। তারা মনে করেন, আইনগত প্রক্রিয়ার পাশাপাশি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান সামাজিক স্থিতি রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
পলাশবাড়ীতে শিশু ধর্ষক আটক : থানায় মামলা
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার মহদীপুর ইউনিয়নের বিশ্রাম গাছী গ্রামে টিভি দেখতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ১০ বছর ৮ মাস বয়সি এক কন্যা শিশু। বিশ্রাম গাছী গ্রামের আশরাফ আলীর ছেলে সায়েদ আলী সরকার (৪০) এর বাড়ীতে টিভি দেখতে গেলে ১৪ জুন শনিবার সকাল ১০ ঘটিকার সময় বসত বাড়ীতে কেউ না থাকার সুযোগে শিশুটির মুখ চেপে ধরে গোসল খানায় নিয়ে গিয়ে জোড় পূর্বক ধর্ষণ করে অভিযুক্ত নারী লোভী লম্পট সায়েদ সরকার (৪০)। এসময় ধর্ষণের শিকার শিশুটি যৌনাঙ্গ ক্ষত হয় এতে রক্ত ক্ষরণ শুরু হয়, প্রথমে পলাশবাড়ী, এরপর গাইবান্ধা হাসপাতাল হতে সেখানে অবস্থার অবনতি হলে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে শিশুটির পরিবার।
এঘটনার পর হতে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে ধর্ষক সায়েদ ও তার পরিবারের সদস্যরা। তারা ধর্ষণের শিকার শিশুটির পরিবার কে ভয়ভীতি দেখিয়ে থানা অভিযোগ পর্যন্ত করতে দেয়নি।
৩০ জুন সোমবার রাতে ধর্ষণের শিকার ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবারকে চাপ দিয়ে বিশ্রামগাছী গ্রামে শালিসী বৈঠকের মাধ্যমে এ ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে চেষ্টাকালে শিশুটির পরিবারের ডাকে ছাত্রদল ও জাসাসের নেতাকর্মীরা স্থানীয় সচেতন মানুষের সহযোগীতায় ধর্ষক সায়েদ কে আটক করে পলাশবাড়ী থানা পুলিশের হাতে তুলে দেন। পরে শিশুটির মা বাদী হয়ে ধর্ষক সায়েদ সরকার কে আসামী করে থানায় মামলা দায়ের করেন।
পলাশবাড়ী পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব আকাশ কবির বলেন,শিশুটির পরিবার ন্যায় বিচার চাওয়ায় ছাত্রদল ও জাসাসের নেতাকর্মীরা মানবিকতা রক্ষায় ধর্ষক কে আটক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনে ভুক্তভোগী পরিবার কে সহযোগীতা করেছি। ধর্ষককে যারা রক্ষার চেষ্টা করেছেন তাদের ধিক্কার জানাই এককই সঙ্গে ধর্ষকের দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তি চাই।
ধর্ষকের দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তি দাবী করে উপজেলা জাসাসের যুগ্ন আহবায়ক জামসেদ রানা বলেন, প্রতিটি মানুষের ন্যায় বিচার পাওয়ার অধিকার আছে। একটি শিশু ধর্ষণের শিকার হলো, কেউ ধর্ষিতা পরিবারের খোঁজ নিলো না, পাশে দাঁড়ালো না এটা অমানবিক ঘটনা। মানবিকতা রক্ষায় ছাত্রদল ও জাসাসের নেতাকর্মীরা শিশুটি পরিবারের পাশে দাড়িয়েছে।
ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবারের দাবী করেন, আর কোন শিশু যেন ধর্ষণের শিকার না হয়, দ্রুত এই ধর্ষকের দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তি চাই, শিশুটি যেমন কষ্ট পাচ্ছে এরচেয়ে হাজার গুণ কঠিন শাস্তি দিতে হবে।
ধর্ষক সায়েদ কে গ্রেফতার ও মামলা দায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন থানা অফিসার ইনচার্জ জুলফিকার আলী ভুট্টো বলেন,গ্রেফতারকৃত সায়েদ আলীকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।