• শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:৪৯ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনাম :
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৫৩ আসনে ১১ দলীয় সমঝোতার ঘোষণা শর্ত সাপেক্ষে আগামীকাল থেকেই খেলায় ফিরতে রাজি ক্রিকেটাররা এসএসসি পরীক্ষা শুরু ২১ এপ্রিল বিএনপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে বাউফলে জামায়াতের সংবাদ সম্মেলন কয়রায় আগুনে পুড়ে গেছে ইটভাটা শ্রমিকের বসত ঘরসহ আসবাবপত্র আগামী নির্বাচনই ঠিক করে দেবে বাংলাদেশ কোন দিকে যাবে : প্রধান উপদেষ্টা নবম পে-স্কেলের বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি: অর্থ উপদেষ্টা সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিহত অন্তত ২০০০ : ইরান রংপুরে স্বচ্ছ ও গ্রহনযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিতকরণে গণমাধ্যমের ভূমিকা শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত শেষ মুহূর্তে জমজমাট কুমারখালীর চৌরঙ্গী বাজারের পেঁয়াজের চারা হাট

পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আবারও নার্সদের উপর হামলা, নিরাপত্তাহীনতায় চিকিৎসক-নার্সরা

বায়েজিদ :
Update : সোমবার, ২৩ জুন, ২০২৫

সবুজবাংলা২৪ডটকম, পলাশবাড়ী (গাইবান্ধা) : গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত সিনিয়র স্টাফ নার্সদের উপর ফের হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে এটি দ্বিতীয় হামলা। এতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন চিকিৎসক ও নার্সরা। ব্যাহত হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম।
ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার (২৩ জুন ২০২৫) রাত আনুমানিক আটটায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কোমরপুর এলাকা থেকে এক রোগীকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হলে তার সঙ্গে থাকা এক স্বজন কর্তব্যরত নার্সদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার শুরু করেন। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং ওই ব্যক্তি চিৎকার-চেঁচামেচি ও হুমকির মাধ্যমে পরিবেশ অস্থিতিশীল করে তোলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, হামলাকারী যুবকের নাম রুবেল। যদিও কর্তব্যরত নার্স ও কর্মীরা তাকে চিনতে পারেননি। ঘটনার সময় উপস্থিত একাধিক ব্যক্তি বলেন, হামলাকারী ব্যক্তি জামালপুর গ্রামের রুবেল বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষসহ কর্মরত চিকিৎসক ও নার্সদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এভাবে হামলা অব্যাহত থাকলে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম ব্যাহত হবে, যার ভোগান্তি পোহাতে হবে সাধারণ রোগীদের।
এই প্রসঙ্গে কর্তব্যরত টিএইচও (উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা) ডাঃ গিয়াস উদ্দিন বলেন, “ঘটনার বিস্তারিত আমরা তদন্ত করে দেখছি। আমরা থানায় লিখিত অভিযোগের প্রস্তুতি নিচ্ছি। পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছি।”
স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি স্বাস্থ্যকর্মীরা দ্রুত এবং কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন, যেন ভবিষ্যতে এমন হামলার পুনরাবৃত্তি না ঘটে এবং হাসপাতালের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ ও সেবাবান্ধব থাকে।


উপসহকারী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ, বহাল তবিয়তে চলছে দাদাগিরি।
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-তে ঘুষ, অনিয়ম ও দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগ ক্রমেই প্রকট হয়ে উঠছে। এসব অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন উপসহকারী প্রকৌশলী মোঃ হেলালুর রহমান হেলাল, যার বিরুদ্ধে স্থানীয় ঠিকাদার, জনপ্রতিনিধি ও নাগরিক সমাজের অসংখ্য অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি বহাল তবিয়তে নিজ অবস্থানে থেকেও নির্বিঘ্নে ‘দাদাগিরি’ চালিয়ে যাচ্ছেন। দেখার কেউ নেই!
স্থানীয় ও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, হেলাল বিগত বছরগুলোতে পলাশবাড়ী উপজেলায় বাস্তবায়িত বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, যেমন (জউজওওচ-২) সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প,(অউচ) উন্নয়ন সহায়তা প্রকল্প, (এজজওওচ) বৃহত্তর রংপুর অঞ্চলের জেলা সমূহের পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প” (খএঊউ জঁৎধষ জড়ধফ গধরহঃবহধহপব) কৃষি সড়ক মেরামতপ্রকল্প,(চঊউচ-৪)- প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন প্রকল্প-
এসব প্রকল্পে উপসহকারী প্রকৌশলী হেলাল সরাসরি ঠিকাদারদের কাছ থেকে বিল ছাড়ের সময় শতকরা ৫% থেকে ১০% পর্যন্ত “কমিশন” গ্রহণ করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ঠিকাদার জানান, “কাজ শেষ করলেও বিল পেতে হলে হেলাল স্যারের ‘খরচপাতি’ দিতে হয়। না দিলে বিল আটকে রাখা হয়। চা-নাস্তা তো নিয়মিত, কখনো সরাসরি টাকাও দিতে হয়।”
সম্প্রতি (এজজওওচ) প্রকল্প সংক্রান্ত তথ্য জানতে সাংবাদিকরা হেলালের কাছে গেলে তিনি সাংবাদিকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং বলেন, “সাংবাদিকদের এসব জানার কোনো অধিকার নাই।” এই বক্তব্য সরাসরি তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯–এর লঙ্ঘন। সরকারি কর্মচারী হিসেবে এটি আইনবহির্ভূত এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজের অভিযোগ, হেলাল এলজিইডির প্রকল্পগুলোতে নিয়ম-নীতি না মেনে অদক্ষ, প্রভাবশালী কিংবা ঘনিষ্ঠ ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেন, যারা নিম্নমানের কাজ করে পার পেয়ে যান। এর ফলেই সদ্য নির্মিত অনেক রাস্তা কয়েক মাসের মধ্যেই ভেঙে পড়ে।
পলাশবাড়ীর এক ইউপি সদস্য বলেন, “রাস্তার কাজ খারাপ হচ্ছে, বারবার বললেও হেলাল তা শোনেন না। উল্টো বলেন, ‘উপরে যারা আছে, তারাও জানে।’ তার মানে কি পুরো সিস্টেমটাই দুর্নীতিতে ঢেকে গেছে?”
স্থানীয়দের একটাই প্রশ্ন—“সরকার যখন দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছে, তখন হেলালের মতো দুর্নীতিবাজরা কীভাবে বছরের পর বছর বহাল তবিয়তে থাকেন?” এমন নীরবতা কি কেবল প্রশাসনিক ব্যর্থতা, নাকি এর পেছনে রয়েছে প্রভাবশালী চক্রের ছত্রছায়া।
স্থানীয় সাংবাদিক মহল ও সুশীল সমাজ দাবি তুলেছে, হেলালের বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করে তার কর্মকাণ্ডের স্বচ্ছ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজনে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং এলজিইডি সদর দপ্তরের মনিটরিং ইউনিটকে হস্তক্ষেপ করতে হবে।
একজন হেলালের মতো ঘুষখোর কর্মকর্তার কারণেই একটি গোটা সরকারি প্রতিষ্ঠান প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে, জনগণের আস্থা বিনষ্ট হচ্ছে। এখনই কঠোর ব্যবস্থা না নিলে পলাশবাড়ীতে উন্নয়নের বদলে “দুর্নীতির দৃষ্টান্ত” হয়ে দাঁড়াবে প্রতিটি প্রকল্প।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category