সবুজবাংলা২৪ডটকম, নওগাঁ : নওগাঁর নিয়ামতপুরে পারিবারিক কলহের জেরে আপন ভাইয়ের ছেলে ভাতিজার হাতে আরশেদ আলী (৫৫) নামে এক চাচা খুন হয়েছে।
আজ সোমবার উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের পানিহাড়া গ্রামে এ খুনের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঘাতক ভাতিজা সুমন (৩২) আটক করে থানা নিয়ে যায়।
জানা যায়, আরশেদ আলী ওই এলাকার মৃত রফিকুল ইসলামের মেজ ছেলে আর অভিযুক্ত ভাতিজা নুর হাবিব সুমন (৩২) নিহতের বড় ভাই নুর আলমের ছেলে। ঘটনার পরে সুমনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পরিবার ও থানা সূত্রে জানা যায়, পরিবারে সকলে একই বাড়িতে বসবাস করেন। সোমবার সকাল ৮টার দিকে আশেদ আলী গরুকে পানি খাওয়াচ্ছিলেন। পরিবারের অন্য সদস্যরা নিজ নিজ কাজে ব্যস্ত ছিলেন।
চাচা আশেদ আলী তাকে কোন এক বিষয়ে কাজের কথা বললে রাগান্বিত হয়ে কোন কথা ছাড়াই পেছন থেকে হাঁসুয়া দিয়ে উপর্যুপরি মাথায় এলোপাতাড়ি কুপিয়ে পালিয়ে যায়। তাঁর আহাজারিতে পরিবারের সদস্যরা এগিয়ে এসে দ্রুত তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ মনিরুল ইসলাম তালুকদার তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের ভাই রবিউল ইসলাম বলেন, কি কারণে এমন ঘটনা ঘটালো তা আমারা বুঝতে পারছি না। তবে সুমনের মনের ভেতরে ক্ষোভ থাকতে পারে।
নিয়ামতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ হাবিবুর রহমান বলেন, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে।
নওগাঁর মান্দায় পরকীয়ার জেরে বিজিবি সদস্য রানা হামিদকে আটক গলায় জুতার মালা
নওগাঁর মান্দায় এক মেম্বার পদপ্রার্থীর স্ত্রীর ঘরে পরক্রিয়া করতে গিয়ে রানা হামিদ (৩৮) নামের এক বিজিবি সদস্য আটক হয়েছে। সোমবার পূর্বরাত সাড়ে ১২টার দিকে আটকের পর গণধোলাই দিয়ে জুতার মালা পরিয়ে বেধে রাখে ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরাসহ স্থানীয়রা। পরে সংবাদ পেয়ে থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে মান্দা থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছে। এ ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
আটককৃত বিজিবি সদস্য রানা হামিদ থানার কুসুম্বা ইউপির বড়পই পূর্বপাড়া গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে। সে বিজিবির ল্যান্স কর্পোরাল পদে কর্মরত রয়েছেন।
স্থানীয়ারা জানান, ওই মেম্বার পদপ্রার্থী একটি মসজিদের ইমাম এবং এবারে ওই ওয়ার্ডের মেম্বার পদপ্রার্থী। গত রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিজিবি সদস্য রানা হামিদ ওই নারীর ঘরে যায়। বিষয়টি ওই নারীর স্বামী জানতে পেরে ঘরের দরজা আটকিয়ে ডাক চিৎকার শুরু করে। এ সময় প্রতিবেশীরা গিয়ে তাকে আটক করে। সে সময় ভুক্তভোগী ওই নারী সবার অগোচরে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। তারা আরও বলেন, রানা ছুটিতে আসলেই সবার অগোচরে গভীর রাতে এলাকার ভাবিদের সঙ্গে দেখা করতে যায়। এর আগেও একবার ওই নারীর সাথে পরক্রিয়া করতে গিয়ে ধরা খেয়েছিল। এছাড়াও সে একাধিকবার এরকম ঘটনায় গণধোলাই খেয়েছে। এবারে তাকে আটকের পর গণধোলাই দিয়ে জুতার মালা পরিয়ে দেওয়া হয়।
এব্যাপারে ভুক্তভোগী নারীর স্বামী বলেন, রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ১২ টার দিকে শয়ন ঘরের উত্তর পার্শ্বের ঘরে অন্ধকার ঘরে রুবিনাকে দেখতে পেয়ে আমার সন্দেহ হয়। পরে ঘরের আলো জ্বালিয়ে দেখি রানা ঘরের এক কোণে দাঁড়িয়ে আছে। এ সময় তাকে আটকানোর চেষ্টা করলে আমাকে জখম করে পালানোর চেষ্টা করে। তবে আমি আহত হলেও জাফটে ধরি। আমার চিকিৎসারে আমার ছেলে শাফিক ও আমার ছোট ভাই অহিদুল ইসলাম এসে তাকে আটক করে। পরে গ্রামবাসীরা এসে গণধোলাই দিয়ে গলায় জুতার মালা পরিয়ে দেয়। বিষয়টি থানা পুলিশকে জানালে থানার এসআই মিজানুর রহমান সঙ্গী সদস্যসহ ঘটনাস্থলে এসে জবাববন্দি শোনেন।
এবিষয়ে অভিযুক্ত বিজিবি সদস্য রানা হামিদ বলেন, পরকীয়া সম্পর্কের কথা সম্পূর্ণ অস্বীকার করে ঘটনাটি পুরোপুরি সাজানো বলে জানান।
সত্যতা নিশ্চিত করে মান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ মুনসুর রহমান বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে রানা হামিদকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ বিষয়ে এখনো থানায় কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নওগাঁর মহাদেবপুরে আওয়ামীলীগের ৩ নেতা-কর্মী আটক
নওগাঁর মহাদেবপুরে পুলিশের বিশেষ অভিযানে নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের ৩ জন নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রবিবার রাতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার আসামীদের সোমবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, উপজেলার খাজুর ইউপির ৬নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি রণাইল উত্তরপাড়া গ্রামের কফিল উদ্দীন মন্ডলের ছেলে আজিজার রহমান, খাজুর ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সভাপতি দেবীপুর গ্রামের মৃত শফিজ উদ্দীনের ছেলে আব্দুল কাদের সৌখিন ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য উপজেলা সদরের কায়েস্থপাড়ার আলহাজ্ব ফয়জুল ইসলামের ছেলে গোলাম রসুল শাফি।
মহাদেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ শাহীন রেজা গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, পুলিশের বিশেষ অভিযানে রবিবার রাতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার আসামীদের সোমবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।