• শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ০৩:৪৩ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনাম :
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৫৩ আসনে ১১ দলীয় সমঝোতার ঘোষণা শর্ত সাপেক্ষে আগামীকাল থেকেই খেলায় ফিরতে রাজি ক্রিকেটাররা এসএসসি পরীক্ষা শুরু ২১ এপ্রিল বিএনপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে বাউফলে জামায়াতের সংবাদ সম্মেলন কয়রায় আগুনে পুড়ে গেছে ইটভাটা শ্রমিকের বসত ঘরসহ আসবাবপত্র আগামী নির্বাচনই ঠিক করে দেবে বাংলাদেশ কোন দিকে যাবে : প্রধান উপদেষ্টা নবম পে-স্কেলের বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি: অর্থ উপদেষ্টা সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিহত অন্তত ২০০০ : ইরান রংপুরে স্বচ্ছ ও গ্রহনযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিতকরণে গণমাধ্যমের ভূমিকা শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত শেষ মুহূর্তে জমজমাট কুমারখালীর চৌরঙ্গী বাজারের পেঁয়াজের চারা হাট

রেজিষ্ট্রেশন কমপ্লেক্স ভবন যেন দূর্নীতির আঁখড়া, ঘুষ ছাড়া মেলে না সেবা

কাজি আরিফ হাসান :
Update : রবিবার, ৪ মে, ২০২৫
oppo_0

সবুজবাংলা২৪ডটকম, ঢাকা : রাজধানীর উত্তর সিটির তেজগাঁও শিল্প এলাকায় রেজিষ্ট্রেশন কমপ্লেক্সে (ভবন-২) যেনো দুনীতি আঁখড়া। এই রেজিষ্ট্রেশন কমপ্লেক্সে সপ্তাহে ৫ দিন চলে জমি,ফ্ল্যাট ও বাড়ির সংক্রান্ত কার্যক্রম। এখানে সেবা পেতে হলে গ্রাহকদের দিতে হয় সরকার নির্ধারিত (মৌজা/অঞ্চল ভিত্তিক ফি) ফিসহ মোটা অংকের টাকা (উৎকোচ) যার কোনো রশিদও দেন না তারা। আর এগুলো করেন তারা রেজিষ্ট্রেশন কমপ্লেক্সের ভিতরে/বাইরে থাকা সিসি ক্যামেরার আড়ালে। আর এই ঘুষের একটা অংশ সাব রেজিস্ট্রারাও পেয়ে থাকে। তথ্য নিয়ে জানা যায়, রাজধানীর বিভিন্ন অঞ্চলের (গুলশান, বাড্ডা, উত্তরা, ধানমন্ডি, খিলগাঁও, সূত্রাপুর, যাত্রাবাড়ি, মোহাম্মদপুর) জমি ও ফ্ল্যাটের মালিকরা (জমি/ফ্ল্যাটের ক্রেতা-বিক্রেতা) আসে তাদের জমি বা ফ্ল্যাটের মালিকানাধীন/নাম পরিবর্তন (নামজারি/ মিউটেশন) বা রেজিষ্ট্রি করতে। উল্লেখ্য যে এই ভবনে জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে প্রতিটা কার্যালয়ে আছে এক জন সাবরেজিস্ট্রার,একজন সহকারী, ২ জন স্থায়ী মোহরার,একজন টি.সি. মোহরার, একজন অফিস সহায়ক এবং নকল নবিশ প্রয়োজন মত থাকে (সিটিজেন চার্টার)। তথ্য নিয়ে জানা গেছে, এখানে রেজিস্ট্রি জন্য জমির কাঠা প্রতি অথবা ফ্ল্যাট স্কয়ার ফিট হিসেবে সরকারি ফী নির্ধারণ করা আছে, আর এই ফী দিতে হয় ব্যাংক পে-অর্ডারের মাধ্যেমে,অথচো তথ্য নিয়ে জানা যায়,লাইসেন্সধারী দলিল লেখকরা সরকারি নির্ধারিত ফি পেঅর্ডারের মাধ্যমে তো গ্রহণ করছেন সেই সঙ্গে অতিরিক্ত টাকা নিয়ে থাকেন গ্রাহকদের কাছ থেকে,তবে জমির দলিলের রশিদ দিলেও তারা টাকার রশিদও দেয় না গ্রহকদের, শুধু তাই নয় এরা অনেক সময় গ্রাহকদের নিকট থেকে পে-অর্ডার না নিয়ে সরাসরি নির্ধারিত ফীসহ অতিরিক্ত ফী নিলেও সরকারি কোষাগারে সরকারি নির্ধারিত ফী জমা হলেও ভুক্তভোগীদের দেয়া অতিরিক্ত টাকা জমা হয় না। এ বিষয়ে উক্ত ভবনের কয়েক জন দলিল লেখকের কাছে গণমাধ্যম কর্মী নামজির বিষেয়ে জানতে চাইলে তাঁরা জানান,এখন নামজারি,খাজনা-খারিজ সব বর্তমান অনলাইনে হয়ে গেছে,”আমাদের হাতে কিছু নাই”, তিনি আরো বলেন,যে কোনো ফ্ল্যাট/জমির মালিকরা ঘরে বসেই অনলাইনে খাজনা-খারিজ দিতে পারবেন, তবে জমি/ফ্ল্যাট রেজিষ্ট্রি করতে হলে জমির মালিকগনদের স-শরীরে রেজিষ্ট্রেশন কমপ্লেক্স ভবনে আসতে হবে। এ বিষয়ে কয়েকজন সেবা গ্রহনকারীদের কাছে জনতে চাইলে তারা গণমাধ্যমকে জনান, “আমরা যতই অনলাইনের মাধ্যমে খাজন-খারিজের টাকা জমা দেই না কেনো তারপরও এই অফিসে আসতেই হবে,আর অনলাইন নিজেরা কাজ করলেও সার্ভার ডাউন বা সার্ভার সমস্যা দেখা যায়,যার কারনে অনলাইনের মাধ্যমে নিজেরা নিজেদের জমি বা ভুমি সংক্রান্ত কাজ করতে পারিনা সঠিক ভাবে তাই তাদের কাছে আসতে হয়,কিছু করার নাই”। সরেজমিনে আরো তথ্য নিয়ে জানা যায়, এ বিষয়ে কেউ প্রতিবাদ করলে তাদেরকে উক্ত রেজিষ্ট্রেশন কমপ্লেক্সে কর্মরতরা হুমকি ধামকি দিয়ে থাকেন উক্ত ভবনে কর্মরতরা,কখনো লোক দিয়ে আবার কখনো নিজেরাই। এমন নীরব দুর্নীতির বিষয়ে উক্ত রেজিষ্ট্রেশন কমপ্লেক্সে আশপাশের অনেকেই বলেন,কোনো ইলেকট্রনিক মিডিয়া বা সনামধন্য প্রিন্ট মিডিয়ার গণমাধ্যম কর্মীর অনুসন্ধানে গেলে হয় তারা নড়েচড়ে বসেন অথবা মোটা অংকের টাকা(ঘুষ) দিয়ে ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন,এ ঘটনার অনুসন্ধানে তেজগাঁও রেজিষ্ট্রেশন কমপ্লেক্সে ভবন-২ যেয়ে দেখা যায় কিছু ব্যক্তিদের যারা এমন নিরব দুর্নীতিতে লিপ্ত,তাদের মধ্যে উক্ত রেজিষ্ট্রেশন কমপ্লেক্সে ভবনে নিচতলায় সাবরেজিস্টার -আবরার ইবনে রহমান(সূত্রাপুর) তারই রুমে থাকা কম্পিউটার অপারেটর মাসুদ, তৃতীয় তলার খিলগাঁও অঞ্চলের সাবরেজিস্টার মাইকেল মহিউদ্দিন আব্দুল্লা রুমে শাহিন দেওয়ান ও তার সহযোগী অফিসের পিয়ন কালু,এই ভবনের তৃতীয় তলার উত্তরা অঞ্চলের সাহেদ তারাই ম্যানেজ করেন অনেক গণমাধ্যমকর্মীদের। এ বিষয়ে রেজিষ্ট্রেশন কমপ্লেক্সে ভবনের ৪র্থ তলার সাব-রেজিস্টারে সঙ্গে গত ২১ এপ্রিল গণমাধ্যম কর্মী দেখা করতে চাইলে সেখানের সাব রেজিস্ট্রারের রুমের পাশের রুমে বসে থাকা একজন বলেন,স্যার ব্যস্ত আছেন দেখা করতে পারবেন না,আপনি তৃতীয় তলার সাব-রেজিস্টার স্যারের সঙ্গে কথা বলেন,এদিকে তৃতীয় তলার উত্তরা অঞ্চলের রেজিস্ট্রার মো:তৌহিদুল ইসলাম সঙ্গে তথ্যে জন্য সাক্ষাৎ করতে চাইলে তিনি এতোটাই ব্যস্ত যে গণমাধ্যম কর্মীকে সময় দিতে পারে না,শুধু তাই নয় অনেক সময় জমির মালিকদের যদি তার জমির পরিমানের বেশি খারিজ করলে এই দাগের অন্য জমির মালিক খারিজের সংক্রান্ত কারনে মিস কেস করতে হয় আর সেটার রায়ের জন্য সাব রেজিস্ট্রার সাহেবের ব্যস্ততা দেখা যায় তবে তার কর্ম শেষ করে তার কক্ষে বসলেও তিনি কারোর সঙ্গে তার কক্ষে সাক্ষাৎ করেন না যা তারই সহযোগিরা গণমাধ্যম কর্মীকে জানায়। অথচো এই অনিয়ম ও দুর্নীতির সম্পর্কে তিনি সব অবগত এবং এ দুর্নীতির এক অংশ এই সব অঞ্চলে সাবরেজিস্টারও পেয়ে থাকেন। ভুক্তভোগীরা জানান,আমরা আমাদের জমি অথবা ফ্ল্যাট রেজিষ্ট্রি করতে আসি এই অফিসে আর আমরা চাই সরকারের বেধে দেয়া নির্ধারিত ফি দিয়ে আমাদের সম্পদ রেজিষ্ট্রি করতে চাই কিন্ত এখনে তো সরকারি নির্ধারিত ফি ছাড়াও অতিরিক্ত টাকা দিতে হয় তাহলে কেনো আমরা এই অতিরিক্ত ফী দেবো? আর না দিয়েও কিবা করবো অতিরিক্ত টাকা না দিলে যে তারা কাজই করে না,ফাইল এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যে সরে না! সে কারনে আমরা নিরুপায় হয়ে অতিরিক্ত ফী দিয়ে আমাদের সম্পদের রেজিষ্ট্রেশন করি। শুধু তাই নয় বিগত সরকারের সময়ও যেভাবে জমি বা ফ্ল্যাট সংক্রান্ত কোনো কাজের জন্য এ ভবনে আসলে ঘুষ দিতে হয় আর বিগত সরকার চলে যাওয়ার পরও এমনই চিত্র থাকে তাহলে দুর্নীতি রোধ হলো কোথায় বরং নিরবেই এরা ঘুষ বানিজ্য আরও বেড়েই চলছে। ভুক্তভোগীর আরো জানান,বিগত সরকার আমলে যারা এই রেজিষ্ট্রেশন কমপ্লেক্স ভবনে ঘুষ বানিজ্য করতো তারা তো আছেনই তবে এদেরকে নিয়ন্ত্রণ করেন বিএনপির ব্যানরে কিছু নেতারা যা তথ্য নিয়ে জানা গেছে। এছাড়া এই ভবনে কর্মরত ব্যক্তিরা ছাড়াও অনেক বহিরাগতে আনাগোনা দেখা যায়,যারা দলিল লেখকদের এই ঘুষ বানিজ্য করতে সহযোগিতা করে থাকে। সেবা গ্রহীতারা জানান,সরকারি নিয়ম অনুসারে মুল দলিল পেতে সময় লাগে ৬/৮ মাস তবে এক সপ্তাহের মধ্য দলিলের নকল উঠানো যায়,যা দিয়ে জমির মালিকগণ তাদের প্রয়োজনে কাজ করতে পারেন,অথচ এই ভবনের বহিরাগতরা গ্রহীতাদের নিকট থেকে মোটা অংকের ঘুষ নিয়ে ১ থেকে দেড় মাসের মধ্যে মুল দলিল বের করে দেন,আর কেউ ঘুষ দিতে রাজি না হলে তাদের দলিল নিয়ে টালবাহানা করে থাকেন তারা। এ ধরনে নিরব ঘুষ বানিজ্য বন্ধের জন্য কর্তৃপক্ষে দৃষ্টি আশা ভুক্তভোগীরা এবং সেই সঙ্গে যারা এভাবে ঘুষ বানিজ্য করছেন এই রেজিষ্ট্রেশন কমপ্লেক্স ভবনে তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই উর্ধতন কর্মকর্তা দৃষ্টি আশা করে ভুক্তভোগীরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category