সবুজবাংলা২৪ডটকম, ঢাকা : সুপ্রিম কোর্টের প্রথম সারির আইনজীবীদের মধ্যে অন্যতম সিনিয়র অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম। এই আইনজীবীর বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্বৈরাচারের দোসর বলে কুৎসা রটানো হচ্ছে। তিনি কোম্পানি ম্যাটারসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন মামলায় লড়ে ইতোমধ্যে দেশব্যাপী পরিচিতি অর্জন করেছেন। আহসানুল করিম সুপ্রিম কোর্টের একজন জ্যৈষ্ঠ আইনজীবী। তিনি কোম্পানি ও সাংবিধানিক বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টে মক্কেলের পক্ষে আদালতে দাঁড়ান। কোনো ধরণের ফৌজদারি মামলা করেন না।
এই আইনজীবীকে শেখ হাসিনার পদলেহনকারী সুপ্রিম কোর্টের ডেভিল উল্লেখ করে শনিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) ফেসবুকে একটি পোস্ট করেন জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না। তিনি তার ফেসবুক পোষ্টে লিখেন ‘শেখ হাসিনার পদলেহনকারী সুপ্রিমকোর্টের ডেভিল এডভোকেট আহসানুল করিমের মতো ফ্যাসিস্টদোসরকে যারা সুপ্রীম কোর্টে শেল্টার দিচ্ছেন তারাও কিন্তু পতিত স্বৈরাচারের দোসর হিসেবেই চিহ্নিত হবেন।
এই সেই আহসানুল করিম যে কিনা ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল ও কলেজে আমার সহপাঠী হওয়া সত্বেও আমি কারাগারে থাকাকালীন আমাকে যখন বারবার উচ্চ আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে ফ্যাসিস্ট খুনি হাসিনার পুলিশবাহিনী বারবার গ্রেফতার দেখাচ্ছিলো তখন অনেক অনুরোধের পরেও আমার পক্ষে আদালতে মামলা শুনানি করতে রাজি হয় নাই।
খুনি হাসিনার পতনের পরে আহসানুল করিমের মত একজন সুবিধাভোগী কিভাবে নির্বিঘ্নে সুপ্রিম কোর্টে নতুন করে সিন্ডিকেট তৈরি করে পূর্বের ন্যায় জামিন বানিজ্য সচল রাখে(?) সেই প্রশ্ন রাখলাম অন্তর্বতী সরকারের সুযোগ্য আইন উপদেষ্টা জনাব আসিফ নজরুল ও সুপ্রিমকোর্টের দেশপ্রেমিক তরুণ আইনজীবীদের নিকট।’
তার এই পোস্টটি শেয়ার করেন সুপ্রিম কোর্টের কয়েকজন বিএনপিপন্থী আইনজীবী। তারাও অ্যাডভোকেট আহসান করিমের বিষয়ে বিরুপ মন্তব্য করে পোষ্ট দেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সিনিয়র আইনজীবী আহসানুল করিমকে নিয়ে দেওয়া পোষ্টটি ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়।
তবে আহসানুল করিমের অনেক সহকর্মীই বলেছেন ভিন্ন কথা। তাদের মতে আহসানুল করিম দেশ বরেন্য আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক উল হকের সুযোগ্য জুনিয়র। তিনি সরাসরি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। সুপ্রিম কোর্ট বারে কোনো রাজনিতক দলের হয়ে নির্বাচন করে নেতাও হন নাই। কোনো মিছিল মিটিং সভা সমাবেশেও তাকে দেখা যায়নি। এমনকি তিনি ৫ আগষ্টের পর ছাত্রজনতার পক্ষে আওয়ামী লীগ সরকারের নির্বাচন নিয়ে উচ্চ আদালতে রিট করেছিলেন। বিভিন্ন সময় আওয়ামী লীগ সরকারের বিপক্ষে মিডিয়ায় কথা বলেছেন। অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মাদ ইউনূসের পক্ষেও তিনি কথা বলেছেন নির্ধিদায়। তাহলে তাকে কেন স্বৈচারের দোষর আখ্যা দওেয়া হচ্ছে? এমন প্রশ্ন অনেকেরই।
জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, এগুলো রাজনৈতিক বক্তব্য। আমি এর চেয়ে আর বেশি কিছু বলতে চাই না।
জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী গাজী কামরুল ইসলাম সজল বলেন, আহসানুল করিম সাহেবের বিরুদ্ধে যারা লিখছেন তারাই বলতে পারবেন কেন লিখছেন।
সুপ্রিম কোর্ট বারের একাধিক সদস্য বলেন, তাকে আমরা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে মিশতে দেখিনি। কোনো ধরণের মিছিল-মিটিং বা সভাসমাবেশে দেখিনি। ইভেন আওয়ামী লীগ সরকারের কোনো মন্ত্রী এমপি বা উচ্চ পদের কোনো নেতার সঙ্গে ছবিও দেখিনি। আর উনি তো ফৌজদারি মামলা করেন না। কাজেই কারো পক্ষে জামিন নেওয়ার বিষয়ে প্রশ্নই আসে না।
আবার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক আইনজীবী বলেছেন যেসব আইনজীবী আহসানুল করিমকে নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিচ্ছেন তারা আহসানুল করিমের লেভেলের আইনজীবী না। আহসানুল করিমকে তারা হিংসা করেন। জেলাসি ফিল করেন।