সবুজবাংলা২৪ডটকম, নোয়াখালী : ইবনে সিনা ট্রাস্টের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু নাসের মো. আব্দুজ জাহের বলেছেন, ইবনে সিনা কোনো দলের বা ধর্মের নয়। এটি সবার ও সব দলের প্রতিষ্ঠান। গতকাল নোয়াখালীর মাইজদীতে ইবনে সিনা হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ২৫তম শাখার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এইসব কথা বলেন। অধ্যাপক আ ন ম আব্দুজ জাহের বলেন, উন্নত প্রযুক্তি সমৃদ্ধ মেশিনারিজ, দক্ষ জনশক্তি, কোয়ালিটি রিপোর্ট, ন্যায্য মূল্য এবং আন্তরিক সেবার প্রতিশ্রুতি নিয়ে আজ থেকে ঐতিহ্যবাহী নোয়াখালী জেলায় ইবনে সিনা হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার কার্যক্রম শুরু করেছেন। এই শাখার মাধ্যমে নোয়াখালীর অঞ্চলের মানুষের স্বল্প খরচে উন্নত সেবা পাবেন। নোয়াখালী কোম্পানীগঞ্জের কৃতি সন্তান আরও বলেন, এ অঞ্চলের মানুষের চিকিৎসার জন্য যেনো ঢাকামুখী বা বিদেশ মুখি হতে না হয় তার জন্য ইবনে সিনা ট্রাস্টের উদ্যোগে সব সুযোগ সুবিধা সম্বলিত হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার নোয়াখালীতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ইবনে সিনা ট্রাস্টের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু নাসের মো. আব্দুজ জাহের বলেছেন, ইবনে সিনা কোনো দলের বা ধর্মের নয় অনুষ্ঠানে ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসির চেয়ারম্যান ও ট্রাস্টের সদস্য (অর্থ) কাজী হারুন-অর-রশিদের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, ট্রাস্টের সদস্য প্রশাসন প্রফেসর ড. এ কে এম সদরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য উপদেষ্টার বিশেষ সরকারি তুহিন ফারাবী, ইবনে সিনা হাসপাতাল ধানমন্ডি শাখার ডিরেক্টর মেডিকেল সার্ভিসেস ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ডা. শহীদুল গনি, হাসপাতালের ডিরেক্টর এডমিন মো. আনিসুজ্জামান, জি এম মাসুদ, মো. জাহিদুর রহমান ও মো. নিয়াজ মাখদুম শিবলী ও ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সুবর্ণচরে এক শিশুর দায়ের আঘাতে আরেক শিশুর মৃত্যু
সুবর্ণচরে খেলার সময় এক শিশুর দায়ের আঘাতে মো. তামিম হোসেন নামে ১৪ মাস বয়সী আরেক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। নিহত মো. তামিম হোসেন একই ইউনিয়নের মধ্য চরবাগ্যা গ্রামের মো. দুলালের ছেলে। এর আগে, গত ১৩ নভেম্বর দুপুর ১২টার উপজেলার চর জুবলী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্য চরবাগ্যা গ্রামের আব্দুল কাদিরের বাড়ির উঠানে এই ঘটনা ঘটে। এর পর শনিবার (১৬ নভেম্বর) সকাল ৬টার দিকে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই শিশুর মৃত্যু হয়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তামিম নানার বাড়িতে বাবা-মায়ের সাথে স্থায়ী ভাবে বসবাস করত। গত ১৩ নভেম্বর নিজেদের বাড়ির উঠানে ভিকটিমের মামাতো ভাই মো. ইসমাইলের সাথে তার চাচাতো ভাই মো. জুনায়েদের খেলাধুলা করছিল। খেলার সময় ইসমাইল ও জুনায়েদের সাথে ঝগড়া লেগে যায়। একপর্যায়ে ইসমাইল হাতের কাছে থাকা দা জুনায়েদকে লক্ষ করে ছুঁড়ে মারে। ওই সময় জুনায়েদ সরে গেলে ভুলবশত তামিমের কপালে গিয়ে পড়ে দা। এতে তার মাথা কেটে গুরুত্বর রক্তাক্ত জখম হয়। পরবর্তীতে ভিকটিমের বাবা প্রথমে তাকে স্থানীয় পল্লী চিকিৎসকের কাছে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে বাড়িতে নিয়ে আসে। পরে ১৫ নভেম্বর রাতে ভিকটিমের শারীরিক অবস্থা অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। ১৬ নভেম্বর সকালে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া জানান, এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা নেয়া হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
নোয়াখালীতে পৃথক দুর্ঘটনায় নারী ও শিশু নিহত
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় দুজন নিহত হয়েছেন। শনিবার সকালে বেগমগঞ্জের কালিকাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে বাসের ধাক্কায় সিএনজি চালিত অটোরিকশা আরোহী এক শিশুর মৃত্যু হয়। এতে নিহতের আপন ছোট বোন আঁখি (৭) গুরুতর আহত হয়। অপরদিকে শনিবার বিকেলে ডাক্তার দেখাতে গিয়ে রাস্তা পারাপারের সময় ট্রাকের ধাক্কায় বেগমগঞ্জের চৌমুহনীতে নুরজাহান বেগম (৪৫) নামের এক নারীর মৃত্যু হয়। বাসের ধাক্কায় নিহত শিশু আইরিন (১৩) উপজেলার ছয়ানী ইউনিয়নের কৃষ্ণরামপুর গ্রামের মো. বাবুলের মেয়ে। শনিবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে উপজেলার জিরতলী চৌরাস্তা টু চন্দ্রগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের কালিকাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনা নিশ্চিত করে চন্দ্রগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন বলেন, ঘটনার পরপরই ঘাতক বাসটি পালিয়ে যায়। পুলিশ বাসটি চিহিৃত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরদিকে ট্রাকের ধাক্কায় নিহত নারী নুরজাহান বেগম (৪৫)। তিনি উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভার গণিপুর এলাকার মো. জাহাঙ্গীরের স্ত্রী। শনিবার বিকেল পৌনে ৪টার দিকে বেগমগঞ্জের চৌমুহনী রেইলগেইট এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেলের দিকে নিজ বাড়ি থেকে নুরজাহান বেগম ডাক্তার দেখানোর জন্য চৌমুহনী বাজারে যায়। ভিকটিম চৌমুহনী পৌরসভার ফেনী টু নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের রেলগেইট এলাকায় দিয়ে রাস্তা পার হওয়ার সময় ট্রাক এসে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি গুরুত্বর আহত হন। তাৎক্ষণিক স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বেগমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। বেগমগঞ্জ থানার সেকেন্ড অফিসার উপপরিদর্শক (এসআই) কৃষ্ণ কুমার দাস বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।