সবুজবাংলা২৪ডটকম, গাইবান্ধা : গাইবান্ধা সাঘাটা উপজেলার কামালের পাড়া ইউনিয়নের গজারিয়া গ্রামে সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াদুদ সন্ত্রাসী বাহিনীর কর্তৃক আপন মিয়া (৩০) নামে এক ব্যক্তির বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ওই পরিবারের দুজন আহত ও প্রায় দুই লক্ষাধিক টাকা ক্ষতি হয়েছে। পরে আহতদের সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান পরিবারের স্বজনরা। এ বিষয়ে সাঘাটা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগি আপন মিয়া (৩০)।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার ১৫ অক্টোবর দুপুর সোয়া ১ টার দিকে পালেরপাড়া ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াদুদ প্রায় একশ থেকে দেড়শ সন্ত্রাসী বাহিনীকে লেলিয়ে দিয়ে হামলা চালায় আপনের বাড়িঘরে। এ সময় ভাটার টুকরো ইট দিয়ে বৃষ্টির মত বাড়ি ঘরে ঢিল নিক্ষেপ করে সন্ত্রাসী বাহিনী। তখন পরিবারের পুরুষ সদস্য না থাকায় নারীদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এসব দুর্বৃত্তরা।পরে পরিবারের নারীরা ভয়ে পালিয়ে গেলে বাড়ির বাক্সের টিনের তালা ভেঙে আনুমানিক ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়। এছাড়া ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ তারা অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। চেয়ারম্যান উদ্দেশ্য প্রমাণিত হবে হামলার আগে এই হামলাকারীদের খিচুড়ি আয়োজন করে খাওয়ায় পরে বাড়িতে এসে হামলা চালায় এরা। এরপর তার ছেলে আবু কাওছার আবির এইসব দুর্বৃত্তদের নিয়ে অতর্কিতভাবে হামলা করে বাড়ির বাগানে থাকা আপন মিয়া ও দুলাল মিয়াকে।এ সময় মারধর এবং রড দিয়ে বুকে ও কাঁধে আঘাত করে তারা। এতে গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে চিকিৎসার নিচ্ছেন সাঘাটা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তারা। এই মামলায় আসামিরা হলেন, কামালের পাড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াদুদ,আর ছেলে আবির, আখতারুজ্জামান লিটন, শহিদুল ইসলাম সহ আরো ১৫ জনকে নাম দিয়ে মামলায় সংযুক্ত করেন আপন মিয়া।
স্থানীয় ও স্বজনদের অভিযোগ, স্থানীয় ও এই ভুক্তভোগী পরিবার এর লোকের কাছ থেকে বিভিন্ন সময় জমি বিক্রি ও চাকরি প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেয়। পরে সেই টাকা ভুক্তভোগীরা চাইতে গেলে ভয় ভীতিসহ তার হুমকি প্রদান করে থাকেন এই সাবেক চেয়ারম্যান ওয়াদুদ। তার নির্যাতনে এই এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ হয়েছে।
পরিবারের অভিযোগ এখনো প্রাণ নাশের হুমকি দিচ্ছেন চেয়ারম্যান ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীরা।তারা প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তার দাবি জানান।এই সাথে এই আসামিদের দ্রুত গেফতার করা হোক।
সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ বলেন,বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছি অভিযোগের প্রেক্ষিতে মামলা হয়েছে। বর্তমানে মামলাটি তদন্ত অবস্থায় রয়েছে।