সবুজবাংলা২৪ডটকম, পলাশবাড়ী (গাইবান্ধা) : গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার প্রাণ কেন্দ্র চৌমাথা মোড় হতে সরকার তেলের পাম্প পর্যন্ত রংপুর ঢাকা জাতীয় মহাসড়কে অতি বৃষ্টির কারনে ছোট বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। যার কারনে প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট বড় দূর্ঘটনা। উত্তরবঙ্গের সাথে সারা দেশের অন্যতম প্রবেশদার গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলা। যার কারনে গুরুত্বপূর্ণ এ যায়গাটি ব্যবসায়িক ও ব্যস্ততম শহর হিসাবে পরিচিত।
বিশেষ করে দিনে এবং রাত ৯টা হতে ১২টা পর্যন্ত যখন দূরপাল্লার যানবাহন তাদের কাউন্টার হতে যাত্রী উঠাতে থাকে,তখন শুরু হয় তীব্র যানজট। বড় বড় গর্তের কারনে এক সাথে দুটি গাড়ী পারাপার করতে পারেনা। একটি গাড়ী দাড়িয়ে থেকে অন্য গাড়িকে পার করে দিতে হয়। যানজটের কারন হিসাবে এটিকেও মনে করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এ ব্যাপারে একাধিক কাউন্টার মাষ্টার জানিয়েছেন অতি বৃষ্টির কারনে রাস্তায় যে গর্ত সৃষ্টি হয়েছে তাতে করে প্রতিদিনই ঘটছে দূঘটনা এবং একই কারনে হচ্ছে দীর্ঘ যানজট । সাসেক প্রকল্পের এর কাজ ধীরগতিতে হওয়ায় এ ভোগান্তি হচ্ছে বলেও জানান তারা।
আল রিয়াদ গাড়ীর ড্রাইভার শফিকুল ইসলাম জানান পলাশবাড়ীর চৌমাথায় বড় বড় গর্তের কারনে মাঝে মাঝেই গাড়ী নষ্ট (বিকল) হয়ে রাস্তায় পরে থাকতে হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে রাস্তা মেরামতের কাজসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জোর দাবি জানিয়েছেন তিনি।
সাসেক প্রকল্পের কাজের ধীর গতির বিষয়ে জানাতে চাইলে দায়িত্বরত একজন বলেন নুনিয়াগাড়ী মৌজায় আইনি জটিলতার কারনে জমির মালিকগণ অধিগ্রহনের টাকা না পাওয়ায় তাদের জায়গায় ব্যারিকেড দিয়ে রেখেছে। যার কারণে কাজের একটু সমস্যা হচ্ছে । তবে এসমস্যার দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন তিনি।
এ বিষয়ে পলাশবাড়ী সড়ক ও জনপদ বিভাগের দায়িত্বরত কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও পাওয়া যায় নি।
গাইবান্ধায় ছোট ভাইয়ের হাতে বড় ভাই খুন
গাইবান্ধা সদর উপজেলায় ছোট ভাই আমিরুল প্রধানের লাঠির আঘাতে বড় ভাই আব্দুল মমিন প্রধান (৬২) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে ছায়েল প্রধান বাদি হয়ে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
২৮ সেপ্টেম্বর শনিবার বিকেলে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আব্দুল মমিন প্রধানের স্বজনরা।
এর আগে ২৭ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সদর উপজেলা সাহাপাড়া ইউনিয়নের নয়ন সুখ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আব্দুল মমিন প্রধান এই গ্রামের মৃত আলম উদ্দিন প্রধানের ছেলে।
স্থানীয়রা জানায়, দীর্ঘ দিন থেকে আব্দুল মমিন প্রধানের সঙ্গে তার দুই সৎ ভাই আমিরুল প্রধান ও আনোরুল প্রধানের জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল।
ইতোপূর্বে এই জমি নিয়ে স্থানীয় সালিশে আপোস করাও হয়। পরবর্তীতে দুই সৎ ভাই এই মীমাংসা না মেনে নিয়ে আবার ২৭ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বিকেলে আব্দুল মমিন প্রধানের সঙ্গে সেই জমির স্থানে তর্ক-বিতর্ক শুরু করেন।
এরই একপর্যায়ে আব্দুল মমনিকে একা পেয়ে পেছন দিক থেকে লাঠি দিয়ে মাথায় সজোরে আঘাত করে আনোরুলের ছেলে আওলাদ মিয়া। তখন আমিরুল প্রধান তার ভাই আব্দুল মমিন প্রধানের পুরুষাঙ্গে বেশ কয়েকবার লাথি মারেন। তারপর ভুক্তভোগীর ছেলে ছায়েল প্রধান বাঁচাতে এলে তাকেও মারধর শুরু করেন। এছাড়া নিহতের ছেলের স্ত্রী রোকসানা বেগম সেখানে গেলে তার মুখম-লে আঘাত করলে তার চোখের পাশেও জখম হয়।
এরপর পরিবারের স্বজনরা আব্দুল মমিনকে দ্রুত সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে শুক্রবার রাতে কর্তব্যরত চিকিৎসক রংপুর মেডিকেলে রেফার্ড করেন। পরে রংপুর মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
এ বিষয়ে গাইবান্ধা সদর থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) মিজান মিয়া বলেন, নিহতের ছেলে গাইবান্ধা সদর থানায় একটি মামলার আবেদন করেছেন। অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেফতারে চেষ্টা করা হচ্ছে।